ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণায় ঘুষ, অসদাচরণ ও তদন্ত কমিটিকে লাঞ্ছিত করায় চাকরিচ্যুত আনসার কোম্পানি কমান্ডার

ঘুষ গ্রহণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে  অসদাচরণ ও তদন্ত কমিটিকে লাঞ্ছিত করায় নেত্রকোণার মদন  উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার শামসুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীর  নেত্রকোনা জেলা কমান্ড্যান্ট গোলাম মৌলা তুহিন আজ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে গত ২৩ জুন জেলা কমান্ড্যান্ট গোলাম মৌলা তুহিন স্বাক্ষরিত  এক অফিস আদেশে তাঁকে (শামসুল আলম) চাকরিচ্যুত করা হয়।
চাকরিচ্যুতির আদেশপত্র, ভুক্তভোগী ও জেলা আনসার কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মদন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনসার সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ায় কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে উৎকোচ নেন উপজেলা আসনার কোম্পানি কমান্ডার শামছুল ইসলাম। কিন্তু তার তালিকা অনুযায়ী অনেক সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রিমি ফেরদৌসীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন আনসার কোম্পানি কমান্ডার শামছুল ইসলাম। গত ৫ মে শামছুল ইসলাম অফিস কক্ষে প্রবেশ করে ওই নারী কর্মকর্তাকে উত্যক্ত ও অশালীন অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করে। এক পর্যায়ে ওই কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি  দিয়ে মারধর করতে চায়। অফিস কক্ষের দরজায় তালা লাগিয়ে নিজেকে রক্ষা করে আনসার কর্মকর্তা রিমি ফেরদৌসী। এ ঘটনায় ওই দিন বিকেলেই উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রিমী ফেরদৌসী নেত্রকোনা জেলা কমান্ড্যান্টের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা কমান্ড্যান্ট। পরে তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ আব্দুস সামাদসহ আরো দুই সদস্য ২৬ মে মদন উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসে তদন্তে আসেন। ওই দিন উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার শামছুল ইসলাম তদন্ত কমিটির সামনে কাগজপত্র ছিড়ে পেলেন এবং কমিটির সকল সদস্যকে লাঞ্ছিত করে। এক পর্যায়ে তদন্ত কমিটির সদস্য যে গাড়িতে করে আসেন সেই গাড়িতে হামলা করেন। এ ছাড়াও ২০০৮ সালে কোম্পানি কমান্ডার শামছুল ইসলাম উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত,বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর আনসার কোম্পানি কমান্ডার শামছুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত হয়।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীর  নেত্রকোণা জেলা কমান্ড্যান্ট গোলাম মৌলা তুহিন জানান, তদন্তে সকল অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় কোম্পানি কমান্ডার শামছুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আনইগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী-পুলিশ সংঘর্ষ : পুলিশের গুলি, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত ২০

নেত্রকোণায় ঘুষ, অসদাচরণ ও তদন্ত কমিটিকে লাঞ্ছিত করায় চাকরিচ্যুত আনসার কোম্পানি কমান্ডার

আপডেট সময় ১২:৫৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুলাই ২০২৪
ঘুষ গ্রহণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে  অসদাচরণ ও তদন্ত কমিটিকে লাঞ্ছিত করায় নেত্রকোণার মদন  উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার শামসুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীর  নেত্রকোনা জেলা কমান্ড্যান্ট গোলাম মৌলা তুহিন আজ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে গত ২৩ জুন জেলা কমান্ড্যান্ট গোলাম মৌলা তুহিন স্বাক্ষরিত  এক অফিস আদেশে তাঁকে (শামসুল আলম) চাকরিচ্যুত করা হয়।
চাকরিচ্যুতির আদেশপত্র, ভুক্তভোগী ও জেলা আনসার কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মদন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনসার সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ায় কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে উৎকোচ নেন উপজেলা আসনার কোম্পানি কমান্ডার শামছুল ইসলাম। কিন্তু তার তালিকা অনুযায়ী অনেক সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রিমি ফেরদৌসীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন আনসার কোম্পানি কমান্ডার শামছুল ইসলাম। গত ৫ মে শামছুল ইসলাম অফিস কক্ষে প্রবেশ করে ওই নারী কর্মকর্তাকে উত্যক্ত ও অশালীন অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করে। এক পর্যায়ে ওই কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি  দিয়ে মারধর করতে চায়। অফিস কক্ষের দরজায় তালা লাগিয়ে নিজেকে রক্ষা করে আনসার কর্মকর্তা রিমি ফেরদৌসী। এ ঘটনায় ওই দিন বিকেলেই উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রিমী ফেরদৌসী নেত্রকোনা জেলা কমান্ড্যান্টের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা কমান্ড্যান্ট। পরে তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ আব্দুস সামাদসহ আরো দুই সদস্য ২৬ মে মদন উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসে তদন্তে আসেন। ওই দিন উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার শামছুল ইসলাম তদন্ত কমিটির সামনে কাগজপত্র ছিড়ে পেলেন এবং কমিটির সকল সদস্যকে লাঞ্ছিত করে। এক পর্যায়ে তদন্ত কমিটির সদস্য যে গাড়িতে করে আসেন সেই গাড়িতে হামলা করেন। এ ছাড়াও ২০০৮ সালে কোম্পানি কমান্ডার শামছুল ইসলাম উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত,বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর আনসার কোম্পানি কমান্ডার শামছুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত হয়।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীর  নেত্রকোণা জেলা কমান্ড্যান্ট গোলাম মৌলা তুহিন জানান, তদন্তে সকল অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় কোম্পানি কমান্ডার শামছুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আনইগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’