ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী নগরির সৌন্দর্য আলোকিত করছে সোনালু গাছের হলুদ ফুল

সোনালু গাছের হলুদ ফুল প্রকৃতিকে নতুন রূপে রাঙিয়ে তুলে এবং এই ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য রাস্তায় চলাচলে ক্লান্ত পথিকের সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। প্রখর রোদে বিরূপ আবহাওয়ায় হলুদ ফুলের চোখজুড়ানো সৌন্দর্য উপভোগ করতে, ছবি তুলতে সোনালু গাছের নিচে ভিড় জমাচ্ছে তরুণ-তরুণী থেকে নানা বয়সের মানুষ।
রাজশাহী নগরীর রাস্তাঘাটের গাছে গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় সোনালু ফুল, যার অপরূপ সৌন্দর্যে আলোকিত চারপাশের পরিবেশ। সেই সঙ্গে এর হালকা মিষ্টি সুবাস প্রজাপতি, মৌমাছি, পাখিদেরও কাছে ডেকে আনে। পাখির কিচির মিচির শব্দে মন ভরেযায় পথিকের।
সোনালু ফুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে দাড়িয়ে থাকা একজন পথিক বলেন, ফুলটি কম-বেশি এখন আর চোখেই পড়ে না। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম হঠাৎ দেখতে পেলাম সোনালু ফুল খুব সুন্দরভাবে রং ছড়াচ্ছে। যা দেখে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায়। কারণ ছোটবেলায় এই ফুল দিয়ে অনেক মালা তৈরি করে সাজগোজ করেছিলাম। এখন এই ফুল কম দেখতে পাওয়া যায়। তবে রাজশাহী নগরীর যে সৌন্দর্যে ছেয়ে গেছে এটি একটি দৃশ্যমান প্রমান। সময়ের সাথে আরো পরিবর্তন হবে এটাই প্রত্যাশা এবং বিশ্বদরবারে একটি রোল মডেল হয়ে থাকবে আমাদের এই রাজশাহী।
সেলফি তুলতে থাকা জান্নতুল তমা বলেন, সকালের প্রথম সূর্য যখন এই সোনালু ফুলে এসে পড়ে তখন  মনে অন্যরকম এক প্রশান্তি আসে, কিন্তু কালের বিবর্তনে এ গাছগুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই বিলুপ্ত প্রায় এই গাছ নতুন করে লাগানো প্রয়োজন এবং যে গাছগুলো এখনো টিকে আছে, সেগুলোর প্রতি যত্ন নেওয়া উচিত। তা না হলে আমাদের পরের প্রজন্ম এই গাছ গুলো শুধু পত্রিকা বা বইয়ে দেখবে বাস্তবে যে এমন ছিল এটা শুধু গল্পের মতো মনে হবে।
এদিকে বন্ধুনিয়ে আড্ডা দিতে থাকা একজন পথিক সৈকত বিশ্বাস বলেন, স্বর্ণের মত রঙ, যে কারো মন কারে এই ফুলগুলো। নতুন এ ফুলগুলো দেখলে মনে হয় রাস্তার মাঝে স্বর্ণ খচিত ফুলেল শোভা। যেন আমাদের তরুন মনে বসন্তের রঙ আবারো ফিরিয়ে আনছে।
আগে ভাবতাম বিদেশেই কেবল এগুলো দেখা যায় তবে চিরাচরিত চিন্তাধারা থেকে বের হয়ে আমাদের রাজশাহীকেও  সুন্দর এবং ফুলেল রঙের শহর যিনি করেছেন আমাদের মাননীয় মেয়র মহোদয় তাকে ধন্যবাদ জানায়।
এই ফুল শুধু সাধারণ মানুষের হৃদয় নয় দোলা দিচ্ছে প্রেমিক যুগলেও। প্রেমিক যুগল এই ফুলেল সুন্দর্য উপভোগ করতে শহরের ফুটপাত ধরে হাতে হাত ধরে বহুদুর পথ নিমগ্নহয়ে চলে যাচ্ছে। তেমনি এক প্রেমিক যুগল (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,  গাছগুলো পরিবেশের জন্য উপকারী। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এর ফুল চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় শোভা বর্ধনকারী হিসেবে সবার কাছে জনপ্রিয় এবং এ গাছ থেকে ভালো মানের কাঠও পাওয়া যায়। যেমন তার গুণ তেমন তার রং ।এই রংও আমাদের যুগলকে বন্দি করে দিচ্ছে। সত্যি নগরীর কাগিরগকে অসংখ্যা ধন্যবাদ।
চেন্নায় ফেরত চেনেল৪ এর রাজশাহীর করেপন্ডেন্ট সৌমের মন্ডল বলছেন,   সোনালু ফুল আমি প্রথম দেখেছিলা চেন্নাই এর পৌন্নমালি সবিতা মেডিকেল এ ২০২০ সালে আর এবার দেখলাম রাজশাহীতে। সত্যি অনেক সুন্দর একটি ফুল। শীতের সময় সমস্ত পাতা পরে যায় নতুন করে দুএকটা পাতা গজাই তারপর ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় চারপাশ। সোনালু ফুল কিন্তু দেখে মনে এক প্রকারর শান্তি আসে। এই ফুলের অনেক এ নাম না জানলেও রাস্তার পাশে গাছ গুলো দেখে একবার হলেও মনের অজান্তে বলে উঠে কিসুন্দর ফুল গুলো।
সুন্দোর্যের লিলা ভূমি হয়ে বিশ্বব্যাপি ক্ষ্যতি অর্জন করছে রাজশাহী নগরী। যার কারিগর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও নগররের রুপকার  এ.এইচ.এম. খাইরুজ্জামান লিটন। রবিন্দ্রনাথের দেয়া সেই নাম আমলতাস। শহর/গ্রামের পথের দুধারে ফুটে থাকে। বসন্তের শেষ দিকে তার আবির্ভাব হয়। উঁচু উঁচু শাখা থেকে ঝাড়বাতির মতো ঝুলে পড়ে, বাড়িয়ে দিয়ে হলদে সোনালি রঙের ফুল। এই গাছটির উৎপত্তি আমাদের উপমহাদেশে।
স্থানীয় নাম সোনালু বা বাদরলাঠি। হিন্দি নামে অম্বলতস। শান্তিনিকেতনে উদ্যান রচনার সময় এই গাছ রোপন করা হয়েছিল। রবিঠাকুর হিন্দি নাম থেকে নাম দিলেন অমলতাস। যা আজ বিশ্বব্যাপি স্বকৃত।
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে রাজস্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত

রাজশাহী নগরির সৌন্দর্য আলোকিত করছে সোনালু গাছের হলুদ ফুল

আপডেট সময় ০২:০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪
সোনালু গাছের হলুদ ফুল প্রকৃতিকে নতুন রূপে রাঙিয়ে তুলে এবং এই ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য রাস্তায় চলাচলে ক্লান্ত পথিকের সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। প্রখর রোদে বিরূপ আবহাওয়ায় হলুদ ফুলের চোখজুড়ানো সৌন্দর্য উপভোগ করতে, ছবি তুলতে সোনালু গাছের নিচে ভিড় জমাচ্ছে তরুণ-তরুণী থেকে নানা বয়সের মানুষ।
রাজশাহী নগরীর রাস্তাঘাটের গাছে গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় সোনালু ফুল, যার অপরূপ সৌন্দর্যে আলোকিত চারপাশের পরিবেশ। সেই সঙ্গে এর হালকা মিষ্টি সুবাস প্রজাপতি, মৌমাছি, পাখিদেরও কাছে ডেকে আনে। পাখির কিচির মিচির শব্দে মন ভরেযায় পথিকের।
সোনালু ফুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে দাড়িয়ে থাকা একজন পথিক বলেন, ফুলটি কম-বেশি এখন আর চোখেই পড়ে না। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম হঠাৎ দেখতে পেলাম সোনালু ফুল খুব সুন্দরভাবে রং ছড়াচ্ছে। যা দেখে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায়। কারণ ছোটবেলায় এই ফুল দিয়ে অনেক মালা তৈরি করে সাজগোজ করেছিলাম। এখন এই ফুল কম দেখতে পাওয়া যায়। তবে রাজশাহী নগরীর যে সৌন্দর্যে ছেয়ে গেছে এটি একটি দৃশ্যমান প্রমান। সময়ের সাথে আরো পরিবর্তন হবে এটাই প্রত্যাশা এবং বিশ্বদরবারে একটি রোল মডেল হয়ে থাকবে আমাদের এই রাজশাহী।
সেলফি তুলতে থাকা জান্নতুল তমা বলেন, সকালের প্রথম সূর্য যখন এই সোনালু ফুলে এসে পড়ে তখন  মনে অন্যরকম এক প্রশান্তি আসে, কিন্তু কালের বিবর্তনে এ গাছগুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই বিলুপ্ত প্রায় এই গাছ নতুন করে লাগানো প্রয়োজন এবং যে গাছগুলো এখনো টিকে আছে, সেগুলোর প্রতি যত্ন নেওয়া উচিত। তা না হলে আমাদের পরের প্রজন্ম এই গাছ গুলো শুধু পত্রিকা বা বইয়ে দেখবে বাস্তবে যে এমন ছিল এটা শুধু গল্পের মতো মনে হবে।
এদিকে বন্ধুনিয়ে আড্ডা দিতে থাকা একজন পথিক সৈকত বিশ্বাস বলেন, স্বর্ণের মত রঙ, যে কারো মন কারে এই ফুলগুলো। নতুন এ ফুলগুলো দেখলে মনে হয় রাস্তার মাঝে স্বর্ণ খচিত ফুলেল শোভা। যেন আমাদের তরুন মনে বসন্তের রঙ আবারো ফিরিয়ে আনছে।
আগে ভাবতাম বিদেশেই কেবল এগুলো দেখা যায় তবে চিরাচরিত চিন্তাধারা থেকে বের হয়ে আমাদের রাজশাহীকেও  সুন্দর এবং ফুলেল রঙের শহর যিনি করেছেন আমাদের মাননীয় মেয়র মহোদয় তাকে ধন্যবাদ জানায়।
এই ফুল শুধু সাধারণ মানুষের হৃদয় নয় দোলা দিচ্ছে প্রেমিক যুগলেও। প্রেমিক যুগল এই ফুলেল সুন্দর্য উপভোগ করতে শহরের ফুটপাত ধরে হাতে হাত ধরে বহুদুর পথ নিমগ্নহয়ে চলে যাচ্ছে। তেমনি এক প্রেমিক যুগল (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,  গাছগুলো পরিবেশের জন্য উপকারী। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এর ফুল চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় শোভা বর্ধনকারী হিসেবে সবার কাছে জনপ্রিয় এবং এ গাছ থেকে ভালো মানের কাঠও পাওয়া যায়। যেমন তার গুণ তেমন তার রং ।এই রংও আমাদের যুগলকে বন্দি করে দিচ্ছে। সত্যি নগরীর কাগিরগকে অসংখ্যা ধন্যবাদ।
চেন্নায় ফেরত চেনেল৪ এর রাজশাহীর করেপন্ডেন্ট সৌমের মন্ডল বলছেন,   সোনালু ফুল আমি প্রথম দেখেছিলা চেন্নাই এর পৌন্নমালি সবিতা মেডিকেল এ ২০২০ সালে আর এবার দেখলাম রাজশাহীতে। সত্যি অনেক সুন্দর একটি ফুল। শীতের সময় সমস্ত পাতা পরে যায় নতুন করে দুএকটা পাতা গজাই তারপর ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় চারপাশ। সোনালু ফুল কিন্তু দেখে মনে এক প্রকারর শান্তি আসে। এই ফুলের অনেক এ নাম না জানলেও রাস্তার পাশে গাছ গুলো দেখে একবার হলেও মনের অজান্তে বলে উঠে কিসুন্দর ফুল গুলো।
সুন্দোর্যের লিলা ভূমি হয়ে বিশ্বব্যাপি ক্ষ্যতি অর্জন করছে রাজশাহী নগরী। যার কারিগর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও নগররের রুপকার  এ.এইচ.এম. খাইরুজ্জামান লিটন। রবিন্দ্রনাথের দেয়া সেই নাম আমলতাস। শহর/গ্রামের পথের দুধারে ফুটে থাকে। বসন্তের শেষ দিকে তার আবির্ভাব হয়। উঁচু উঁচু শাখা থেকে ঝাড়বাতির মতো ঝুলে পড়ে, বাড়িয়ে দিয়ে হলদে সোনালি রঙের ফুল। এই গাছটির উৎপত্তি আমাদের উপমহাদেশে।
স্থানীয় নাম সোনালু বা বাদরলাঠি। হিন্দি নামে অম্বলতস। শান্তিনিকেতনে উদ্যান রচনার সময় এই গাছ রোপন করা হয়েছিল। রবিঠাকুর হিন্দি নাম থেকে নাম দিলেন অমলতাস। যা আজ বিশ্বব্যাপি স্বকৃত।