সুনামগঞ্জ বিশ্বম্ভরপুরে ত্রাণের জন্য বন্যাক্রান্ত মানুষের হাহাকার : পানি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ

মিজানুর রহমান সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জ জেলা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ত্রাণের জন্য বানভাসি মানুষের হাহাকার, বন্যার পানি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ।
স্বরন কালের ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে উপজেলার সবকটি গ্রাম। ঘরে-বাহিরে পানি কোথাও তিল পরিমান ঠাই নেই। আশ্রয়, খাবার ও বিশুদ্ধ পানিয় জলের অভাবে বন্যাক্রান্ত মামুষ আজ দিশেহারা । এই বন্যায় মানুষের কষ্টের ষেশ নেই। ঘরে ঘরে বন্যার পানি ঢুকে কাছা আদা কাছা ঘড়ে হাটু পর্যন্ত পেক হয়ে গেছে। পানিবন্দি মানুষ রান্না বন্ধ পয়নিস্কাশন সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। ঘরে বাহিরে চলছে কান্নার রোল। বানভাসি মানুষের কন্নায় ভারি হয়ে গেছে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আকাশ বাতাস। এবারের বন্যায় ভয়াবহতা এমনই ছিল যে, বিগত ১০০ বছের ইতিহাসে এবারের বন্যার ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।এখনও পানিবন্দি হযে আছে লক্ষাধিক মানুষ। নেই বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্য সংকটে দিনরাত পার করছে বন্যার্ত মানুষ জন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মধ্যে বানভাসি মানুষ তাদের গৃহীতপালিত পশু গরু ছাগল নিয়ে।গুখাদ্যের সংকটে তাদের গৃহপালিত পশু নিয়েও পড়েছেন চরম বিপাকে। যেখানেই ছুটছেন গৃহপালিত পশুদের সাথে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেক পরিবারের নিজস্ব নৌকা না থাকায় নিজ ঘড়ে পানিবন্দি অবস্থায় বাড়িঘরে আটকা পড়ে থাকতে হচ্ছে। তাছাড়া হাট-বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা পণ্য সামগ্রি আমদানি করতে না পড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কৃত্রিম সংকটের মধ্যে অত্র এলাকার মানুষ।নিত্য ঔষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে জনমনে ভীতি আর উৎকন্ঠা কাজ করছে। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতে পানি ঢুকে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা। আর এই সুযোগে চিড়া, মুড়ি, কুপিবাতি, মোমবাতি, গ্যাস সিলিন্ডারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটতে ব্যস্ত অন্য আর এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন ললিয়াপুর গ্রামের প্রভিন মুরব্বি ছাদেম আলী জানান, সৃতির ৮০ বছরের স্বরনিয় বন্যা দেকিনাই।আমার মনে হয় কিয়ামতের আলামত দেখছি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের কৃঞ্চনগড় গ্রামের বয়োবৃদ্ধ সুকেশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, বাপ- দাদর কাছ থেকেও সুনিনাই এত পানির কথা।
স্থানীয়দের আরও অনেকেই বলছেন এত পানি এর আগে তারা কখনো দেখেননি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আরো ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিথে যাচ্ছে।প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানালেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের।
 স্থানীয় শতবছরের অনেকেই বলছেন এই বন্যা ২০০৪,১৯৮৮ কিংবা ১৯৭৪ সালের বন্যার চেয়েও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বাসা বাড়িতে পানি থাকায় রান্না করতে না পারায় সবচেয়ে বেশি খাদ্য সংকটে ভুগছ বানভাসি মানুষ । মানুষের বছরের খুরাক ধান চাল সবাই পানির নিচে।এখনও অনেক এলাকায় বিদুৎ নেই। যারা দিনমজুর তারা কাজে যেতে পারছেন না। আয় রোজগার বন্ধ। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সুনামগঞ্জের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদি উর রহিম জাদিদ জানান, প্রায় ৮০ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা ছিল। সেখানে প্রায় লক্ষ্যাধিক আশ্রয় নেয়।বন্যার আজ ৬ দিন পর আশ্রয় কেন্দ্র অল্প লোকজন আছে। ২-১ দিনের মধ্যে সবাই নিজ বাড়িতে ছলে যাবে।সুনামগঞ্জ জেলা থকে এপর্যন্ত বন্যার দুধাপে মোট ৯০ টন চাল পেয়েছি সেগুলোর বন্টন অব্বাহত আছে।