সুনামগঞ্জে পানি কমতে শুরু : ত্রানের জন্য হাহাকার

মিজানুর রহমান সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের ব্ন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে । কিন্তু দুর্ভোগ কমেনি সুনামগঞ্জের বানবাসী মানুষের।খবারের তীব্র সংকট ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব। প্রত্যন্ত এলাকার বানভাসিরা মালবাহী  নৌযান দেখলেই ত্রাণের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসছেন ত্রাণের আশায়। সাঁতার কেটে, গলা সমান পানিতে নেমেও নৌযানের কাছাকাছি আসছেন তারা। তবে বেশিরভাগই ফিরছেন শূন্য হাতে।

প্রভল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা  পাহাড়ি ঢলে গত বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়। শুক্রবার ভোর ৩টায় অল্প  কিছু সময়ের মধ্যেই ডুবে যায় জেলার প্রায় ৯০% এলাকা। সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, ছাতক,বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা, মধ্যনগর,ধর্মপাশার অনেক বাড়িঘরের চাল ছুঁয়েছে বন্যার পানিতে। বানভাসি মানুষ সরকারি বেসরকারি দুতলা, তিন তলা ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। তালা দেওয়া অনেক দুতলা গুরুত্বপূর্ণ অফিস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনের তালা ভেঙে জীবন বাঁচিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডবে ঘরে থাকা ধান-চাল, জমিতে থাকা সবজি, পুকুরের মাছ সবই ভেসে গেছে। পানি কিছুটা কমলেও ঘরে খাবার নেই, বাইরে কাজ নেই। সিংহভাগ দোকানপাঠও এখনো খুলতে পারেননি দোকানিরা।দোকানের গচ্ছিত মালামাল পানিতে ঢুবে নষ্ট হয়ে গেছে। দোকান মালিকরা নতুন মালামাল কিনতেও পারছেনা যোগাযোগের অভাবে। এই অবস্থায় নিত্য পন্ন সহ খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে  জেলার বেশিরভাগ এলাকায়। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত সকলেই মহাবিপদে পড়েছেন। তাই নদীতে, হাওরে নৌযান দেখলেই ত্রাণের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটছেন নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা।

বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে প্রায় তিনশ’ প্যাকেট ত্রাণ নিয়ে কোস্টগার্ডের একটি দল সদর উপজেলার গৌরারংয়ের দিকে রওয়ানা দিলে পথেই ইব্রাহিমপুর, সদরগড় ও অক্ষয়নগরে হাজারো বানভাসি ঝুঁকি নিয়ে তাদের নৌযানের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ত্রাণবাহী নৌযান অক্ষয়নগর, পূর্ব-পশ্চিম সদরগড় ও ইব্রাহিমপুরে ভেড়ানোর চেষ্টা করলেও বানভাসি মানুষের ভিড় দেখে নৌযান ভেড়াতে পারেননি কোস্টগার্ডের সদস্যরা। পরে নৌযান থেকেই ত্রাণের বস্তা ছুঁড়ে দিতে হয়েছে ত্রাণ প্রত্যাশীদের। একই অবস্থা চলছে স্থানে স্থানে।

ইব্রাহিমপুরের রফিক মিয়া জানান, পাঁচ দিনের মধ্যে দুবেলা ত্রাণের খিছুড়ি পেয়েছেন, একবার চিড়া, মুড়ি পেয়েছিলেন। এই খেয়েই বেঁচে আছেন পরিবারের সকলে। ত্রাণ প্রত্যাশী রেজা উদ্দিন, সুলতানা ও রবি একই ধরনের তথ্য জানান।

উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের গ্রামগুলোতে এখন পর্যন্ত ত্রান পৌছায় নাই। যদিও আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ ঘড়ে ফিরছে। কিন্তু তাদের দুর্ভোগের সীমা নেই।

কোস্টগার্ডের লেফটেন্যান্ট সাব্বির আলম বললেন, আমরা যে পরিমাণ ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছি, এর চাইতেও ত্রাণ প্রত্যাশী মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পরবর্তীতে আরও বেশি ত্রাণ নিয়ে যাবার চেষ্টা করবো আমরা।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেছেন, বন্যাদুর্গতদের কেউ না খেয়ে নেই। প্রতিদিন ৪৪ হাজার মানুষকে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৬৭৫ টন চাল, ১২ হাজার বস্তা শুকনো খাবার, ৮০ লাখ নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৫০ লাখ টাকা আমাদের হাতে রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বন্যার্তদের ৫৮ লাখ টাকা সহযোগিতা দিয়েছেন।