বরগুনায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে মারধর করার অভিযোগ

অলিউল্লাহ্ ইমরান, বরগুনাঃ
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে খুনের উদ্দেশ্যে মারধর করার অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ কয়েকজনের নামে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এনামুল হক শাহিন।
বুধবার (২২ জুন) বরগুনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মাহবুব আলম মামলাটি আমলে নিয়ে ৪ আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
আসামিরা হলেন- বরগুনা সদর উপজেলার মাইঠা গ্রামের মোহাম্মদ হোচেন মিয়ার ছেলে ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ফারুক মৃধার ছেলে সুমন, বশির ও সৈয়দ গাজীর ছেলে মুসা। সিদ্দিকুর রহমান বরগুনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
জানা যায়, গত বছর ২১ জুন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এনামুল হক শাহিন বুড়িরচর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান নির্বাচন করেন। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হুমায়ূন কবিরের কাছে পরাজিত হন সিদ্দিকুর রহমান। আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমানের ধারণা এনামুল হক শাহিন ও  অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হুমায়ূন কবির আঁতাত করে তাকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করেছেন। এমন আশঙ্কায় ১৯ জুন রাত সাড়ে ৯টায় বরগুনা থানার সামনে বরগুনা পৌরসভা মেয়র কামরুল আহসান মহারাজের ল’ চেম্বারের সামনে আসামিরা এনামুল হক শাহিনকে একা পেয়ে খুনের উদ্দেশ্যে মেরে আহত করে। শাহিন বরগুনা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আদালতে মামলা করেন।
শাহিন বলেন, আমি নির্বাচনে কারো সঙ্গে আপস করিনি। সিদ্দিক মনে করেছে আমি কবিরের সঙ্গে আপস করে তাকে বিজয়ী করেছি। ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে সিদ্দিকের লোকজন আমাকে মারধর করেছে। আমার বাবা আবদুল মান্নান ওই ইউনিয়নে দুইবার চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি একাধিক বার নির্বাচন করেছি। সিদ্দিক ও তার লোকজন অনেক লোকের সামনে আমাকে মারধর করেছে।
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম। এ বছর আমি জিততে পারিনি। এতে আমার কারো ওপর কোনো ক্ষোভ নেই। শাহিনকে আমি মারিনি। তিনি কারো পরামর্শে আমার সম্মান নষ্ট করার জন্য মিথ্যা মামলা করেছেন। শাহিন মামলায় উল্লেখ করেছে পৌর মেয়রের ল’ চেম্বারের সামনে ঘটনা। সেখানে কোনো ঘটনা হলে পৌর মেয়র সাক্ষী থাকতেন। শাহিনের মিথ্যা মামলা করা ঠিক হয়নি।