ভর্তির সুযোগ পাবে কি দিপক!

বাবা ছোয়া (ছেলে) কোনা ছোট থাকি খুব কষ্ট করেছে। ওর বাপ মারা যাবার পর থাকি মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করি খাওয়াছুক।
আজ ভালো জায়গাত পড়ির সুযোগ পাইছে। কিন্ত টাকা নাগে। মোরটে তো টাকা নাই। মুই এলা টাকা কোনটে পাং।

তার মা কিরন বালা সময় সংবাদকে জানায়, অভাবের সংসারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মানুষটি চলে যাওয়ায় দিশে হারা হয়ে পড়েন তার মা কিরন বালা। তাই জীবিকা নির্বাহের জন্য ঝিয়ের কাজ বেছে নেন কিরন ,তোমরালা একনা ব্যবস্থা করি মোর ছোয়া কোনাক ভর্তি করি দেও।
দিপক লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব-নওদাবাস গ্রামের মৃত দোলচাঁদ চন্দ্র বর্মণের ছোট ছেলে। তার মা কিরন বালা ও বড় ভাই সুকুমার বর্মণকে নিয়ে তাদের অভাবের সংসার।

দিপক কুমার তিন বছর বয়সে বাবাকে হারান। অভাবের সংসারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মানুষটি চলে যাওয়ায় দিশে হারা হয়ে পড়েন তার মা কিরন বালা। তাই জীবিকা নির্বাহের জন্য ঝিয়ের কাজ বেছে নেন কিরন বালা।

কোন কিছু বুঝে ওঠার আগে দিপককে সংসারের হাল ধরতে হয় মায়ের পাশাপাশি। তাই দিপক তার বড় ভাই সুকুমারের সঙ্গে দিন মজুরের কাজ শুরু করে। এক টুকরো সুখের খোঁজে, মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে অবিরাম ছুটে চলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি অভাব-অনটন।

তাই দিন মজুরের পাশাপাশি দিপক পড়াশুনা চালিয়ে যায়। সবকিছুকে পেছনে ফেলে শত কষ্টের মাঝেও সে একা একা করে এইচএসসি পাস করে। তার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এমনকি মেধা তালিকায় স্থান করে জগন্নাথ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগও পেয়ে যায়। কিন্ত অর্থের কারণে থমকে আছে দিপকের ভর্তি। চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে এখন তার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অর্থ।

দিপক জানায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ’ ইউনিট থেকে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে- ২৮৮, ‘ই’ ইউনিটে- ৩০১ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডি’ ইউনিট থেকে ৫৮০ মেধা স্থান অর্জন করে ভর্তির সুযোগ পায়। সে এসএসসিতে জিপিএ-৫ ও এইচএসসিতে জিপিএ ৪.০৮ পেয়েছে। কিন্ত সে এত ভালো ফল ও মেধা স্থান অর্জন করেও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছে না। আমি যাতে লেখা পড়া শেষ করে আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি তার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চাইছি।