২০২২-২৩ অর্থ বছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশের সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য বাজেট উপস্থাপন করে অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন করোনাভাইরাস সংকট কাটিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। একে আরও গতিশীল করতে তিনি বিদেশে অর্জিত অর্থ ও সম্পদ দেশে এনে কর দিলে আয়কর কর্তৃপক্ষ কোন প্রশ্ন উত্থাপন করবেনা বলে জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশন আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী, যা অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার চতুর্থ বাজেট।

‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায়’ প্রত্যাবর্তন শীর্ষক বাজেট বক্তৃতায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন তিনি, যেখানে ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির সাড়ে পাঁচ শতাংশ।

প্রস্তাবিত এই বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে মেটানো হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে।

এছাড়া আগামী অর্থ বছরে মোট রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা আসবে বলে বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেছেন যে আগামী অর্থ বছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

“মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের মূল কৌশল হবে বিদ্যমান চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমিয়ে সরবরাহ বাড়ানো। সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বাজেটে বরাদ্দ সুচিন্তিতভাবে নির্ধারণ করেছে, ” অর্থমন্ত্রী বলেছেন তার বক্তৃতায়।

প্রসঙ্গত, কোভিড মহামারি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসার পর রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে অস্থিরতা বেড়েছে এবং এর জের ধরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে গেছে বাংলাদেশসহ সর্বত্রই।

তবে এবারও বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা তিন লাখ টাকাই রাখা হয়েছে। যদিও কর্পোরেট করহার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে তৈরি পোশাক শিল্প খাতকে প্রণোদনা সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য টেক্সটাইল শিল্পে বিদ্যমান করহার পনের শতাংশ আরও তিন বছর অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সুত্র : বিবিসি বাংলা