হাতি অথবা সাপ নিয়ে চাঁদাবাজি

সাইফুল্লাহঃ

হঠাৎ সামনে বিশাল বড় সাপ, কারোর গায়ে পেঁচানো, অনুভূতি কি রকম হতে পারে?  ঠিক এভাবে সাপ গায়ে পেঁচিয়ে এক মহিলা দোকানে দোকানে সাহায্য চেয়ে বেড়াচ্ছে। এটা কি সাহায্য নাকি চাঁদা? সাহায্য যদি হবে তাহলে সাপ নিয়ে কেন? সময় হিসেবে সন্ধ্যাকে বেঁচে নেয় কেন তারা? আপনি দোকানে দাঁড়িয়ে আছেন পাশেই এই মহিলা গায়ে সাপ পেঁচিয়ে ঐ দোকানে সাহায্য চাচ্ছে, অবশ্যই দ্রুত ঐ দোকান ত্যাগ করা আপনার কর্তব্য হয়ে পড়বে। সেই সুযোগকে কাজে লাগায় ঐ মহিলা। নির্দিষ্ট পরিমান টাকা ধার্য করে দেয় ঐ মহিলা এবং দোকানিকে ঐ টাকা দিতে বাধ্য করে।
আবার মাঝেমধ্যে হাতি নিয়ে চাঁদা আদায় করে এক শ্রেণির মানুষ। চাঁদা কম দিলে কিংবা না দিলে হাতি প্রচুর জোরে চিৎকার করে। ভয়ে ঐ ব্যক্তি বড় অংকের একটি অর্থ দিয়ে হাতিকে ঠান্ডা করে। অনেকেই ভাবে হাতি রেগে গেলে আমাদের কিছু করার নেই। তবে এটা খেয়াল করার বিষয়- হাতিটাকে একজন ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। সে যেটা নির্দেশ করে হাতি সেটাই শুনবে এবং মানতে বাধ্য হয়। কারণ ঐ ব্যক্তিকে হাতি প্রভু হিসেবে মানে। এভাবে নিরুপায় হয়ে বিভিন্নভাবে মানুষ বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তির কাছে হেরে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের লোক এগুলো দেখেও কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা আরোও বেশি পার পেয়ে যায়। তাদের সাহসের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়ে।
আজ সকালে হাতি নিয়ে এবং গতকাল সন্ধ্যায় সাপ নিয়ে রাজধানী মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানে  চাঁদা বাজী করে ঐ সব মানুষ। তাদের ভাষ্য মানুষের মজা দেওয়ার জন্য তারা রাস্তায় হাতি ও সাপ নিয়ে ঘোরে আর তাদের খাবার এবং রাখাল খরচ বাবদ সামান্য অর্থ বিভিন্ন দোকান থেকে আমরা নিয়ে থাকি। সেটা খুবই সামান্য ও ইচ্ছা অনুযায়ী।
র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম একবার হাতি নিয়ে চাঁদা বাজি করায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তবে এখনও পর্যন্ত এ চাঁদা বাজী থামে নি। সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। একবার হাতি, একবার সাপ, একবার হিজড়া সহ আরোও অনেক চাঁদা দিয়ে নিজের কষ্টের অর্জিত টাকা অন্যকে কিভাবে দিবে? ইচ্ছা না থাকলেও দিতে হয় চাঁদা।