সোনারগাঁয়ে বর্ষাকালে নদীতে প্রচুর মাছ পেয়ে জেলেরা খুশি

মাজহারুল রাসেল :
সোনারগাঁ নদীবেষ্টিত  উপজেলা হিসেবে সুপরিচিত। উপজেলার চারদিকে বয়ে গেছে মেঘনা,শীতলক্ষ্যার, ব্রহ্মপুত্র ও মেরিখালি নদী। এখন বর্ষাকালের জন্য নদীগুলোতে প্রচুর পানি তাই জেলেদের জালে প্রচুর দেশি প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। দেশি প্রজাতির মাছের মধ্যে রুই,কাতলা, মৃগেল, ইলিশ,চিংড়ি,বোয়াল,পাবদা, পাঙ্গাস,আইড়, বাইম, রিঠা, টেংরা ও পুঁটিসহ নানা ধরনের মাছ।
বিভিন্ন জেলেদের সঙ্গে আলাপ কালে জানা যায় এই বর্ষা মৌসুমে তারা প্রচুর মাছ পেয়ে থাকে। জেলেরা সাধারণত রাত্রের বেলা মাছ ধরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে কিন্তু এই উপজেলার দিনের বেলাও জেলেদের প্রচুর মাছ ধরতে দেখা যায়।
জেলেরা তাদের মাছের প্রচুর দাম পাওয়ার জন্য বৈদ্যের বাজার ঘাটের আড়তে নিয়ে আসে। কারণ এই বৈদ্যেরবাজার ঘাটে ঢাকাসহ নানা উপজেলা থেকে দেশি প্রজাতির  মাছের স্বাদ গ্রহণ করার জন্য ছুটে আসেন। দাম একটু বেশি হলেও এই ঘাটে দেশি মাছের ব্যাপক চাহিদা।
সোনারগাঁ উপজেলার যে সমস্ত এলাকায় নদীর দেশী প্রজাতির তরতাজা মাছ পাওয়া যায়,সে বাজার ও হাটগুলো হলো মেঘনা ঘাট, আনন্দবাজার,নুনেরটেক, বারদী,হোসেনপুর বাজার, পাঁচানি ঘাট।
চাঁদপুর থেকে আগত মোবারক জেলে বলেন, আমরা বর্ষাকালে প্রতিবছর তিন থেকে চার মাস সোনারগাঁয়ে মাছ শিকার করতে আসি। এখানের মেঘনা নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় এবং মাছের ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই আমরা প্রতিবছর এখানে মাছ শিকার  করতে আসি।
প্রতিদিন ভোর সকালবেলা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের মাছ বিক্রেতারা বৈদ্যের বাজার ঘাট থেকে মাছ কিনে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে থাকে।
ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে আগত ফারুক নামের পাইকার বলেন, এখানের মাছ খুব সুস্বাদু, তাই যাত্রাবাড়ীতে নদীর দেশি মাছের চাহিদা বেশি তাই এখান থেকে মাছ কিনে নিয়ে যাত্রাবাড়ীতে  বিক্রি করি বেশি মুনাফা লাভের আশায়।
বৈদ্যের বাজার ঘাটের আড়তদার জানান, বছরের এই দিনগুলোতেই তাদের আড়তে মাছ প্রচুর পাওয়া যায়। তাই বেচাবিক্রিও ভালো হলে সেই সুবাদে আমাদের ও ভালো উপার্জন হয়।