শরনখোলা উপঃ জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  চিকিৎসক শূন্য : ধার করা চিকিৎসক দ্বারা চলছে সেবা

এম এইচ শান্ত
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি :
চিকিৎসক শূণ্য হয়ে পড়েছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। চার জন এরমবিবিএস চিকিৎসকের তিন জনই পারিবারিক সমস্যা ও অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে রয়েছেন। একমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছাড়া তিনদিন ধরে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক নেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। দুই জন উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসক দেখছেন রোগী। এ অবস্থায় পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলা থেকে আজ (বুধবার) ধার করে আনা হয়েছে একজন চিকিৎসক। বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা।
এছাড়া, জরুরি বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসক বিশ্বজিত মজুমদার। মারামারি, দুর্ঘটনায় আহত ও অন্যান্য মিলিয়ে সেখানে রোগীতে ঠাসা। একা এতো রোগীর চাপ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন বলে জানান জরুরি বিভাগের এই চিকিৎসক।
এব্যাপারে, শরণখোলা উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাবুল দাস বলেন, শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি সব সময়ই চিকিৎসক বৈষম্যের শিকার। এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকতো থাকেই না। এমবিবিএস চিকিৎসকও থাকেন হাতে গোণা দু-চারজন। কোনো মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। বর্তমান একজন চিকিৎসকও না থাকায় পরিস্থিতি আরো চরম পর্যায় পৌঁছেছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে সারধারণ রোগীরা। চলমান সংকট সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান এলাকাবাসী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বিভিন্ন সমস্যায় তিন জন ডাক্তার ছুটিতে রয়েছেন। রোগীর প্রচন্ড চাপ। এ অবস্থায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ফাঁকে  আমি নিজে গিয়েও আউট ডোরে রোগী দেখছি। বিষয়টি সিভিল সার্জন স্যারকে জানানোর পর আপাতত মোরেলগঞ্জ থেকে একজন ডাক্তার পাঠিয়েছেন। এছাড়া, রামপাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে গোলাম মোকদারি খান নামে একজন ডাক্তার ডেপুটেশনে এখানে পাঠানোর কথা।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. জালাল উদ্দিন বলেন, শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যার বিষয়টি আমি জানি। ইতোমধ্যে একজন চিকিৎসক সেখানে পদায়ন করা হয়েছে। যারা ছুটিতে রয়েছেন তাদেরকে দ্রুত ফিরে আসার জন্য বলা হয়েছে। চলমান এই সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে।