যৌতুকের জন্য এ কেমন নির্যাতন

সাইফুল্লাহঃ

কিছু মানুষের ভালোবাসার পরিনাম অতিষ্ঠ যন্ত্রণা। ভালোবাসা, একসাথে থাকা অতঃপর প্রতারণা এটা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমনকি বিয়ের প্রলোভনে সন্তান নেয়া। অতঃপর নির্যাতন দিয়ে ইতি টানে হাজার কষ্টে অর্জিত সম্পর্কটি। ঠিক এমনটি ঘটেছে সুমাইয়া(২০) (ছদ্মনাম) নামক একটি মেয়ের সাথে।
আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিক ভাবে বিয়ে না করতে চাওয়া মেয়েটি এসে হাত ধরে একটি ছেলের। যার নাম রাকিব(২৪)। দুজনের বাড়ি পিরোজপুর জেলায়। একই সাথে চাকরি করতো প্রাইভেট একটি কোম্পানিতে। তাদের স্বপ্ন ছিল আজীবন কেউ কাওকে ছেড়ে যাবে না। তবে এটা ছিল মেয়েটির জন্য চরম ভুল।
এক সময় তারা চাকরি ছেড়ে দিলে মেয়েটি টিউশনি করে সংসার চালাতো। ছেলেটি তখন ব্যস্ত পড়ালেখায়। সেটা ছিল তার অভিনয়। যাতে মেয়েটি তাকে ভুল না বুঝে। পরিশেষে তাদের সংসারে আসে নবাগত সন্তান। তখন থেকে শুরু হয় অতিষ্ঠ নির্যাতন মেয়েটির প্রতি। ছেলেটি ভাবতে থাকে মেয়েটিতো তাকে আর ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারবে না। ছেলেটি মেয়েটির কাছ থেকে বিভিন্ন সময় মোটা অংকের টাকা দাবী করে। বলে তুমিতো ইনকাম করে চলো সেভিংস করো আমাকে কেন দিবে না। দিতেই হবে, না দিলে মেয়েটির কপালে জুটে অতিষ্ঠ নির্যাতন। নির্যাতনের বর্ণনায় মেয়েটি বলে আমাকে সে পেটে ভীষণ জোরে লাথি মারে, মাথার চুল ধরে দেয়ালের সাথে আছাড় মারতে নিয়ে যায়। পেটের লাথির জন্য এখনও মাঝে মাঝে আমার পেটে ব্যাথা অনুভব হয়।
পরে অতিষ্ট হয়ে মেয়েটি তার স্বামীর সমস্ত কথা মেনে নিলেও স্বামী তাদের ছেড়ে চলে যায়। খোজ নেয় না তাদের সন্তানটারও। আজ দেড় বছর অতিক্রান্ত হলেও সে একদিনের জন্য ও কোন একটি জিনিস তার সন্তানের জন্য পাঠায়নি।
এক পর্যায়ে মেয়েটি পূর্বের মত টিউশনি করে চললে,  ছেলেটি আবার তাকে উত্তক্ত করা শুরু করে। এমনকি তার বন্ধুদের দিয়ে পথের ভেতর তার বোরকা খুলতে চায়। তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। তার ইনকামের উপরও তারা বাধা দিতে চায়। তাকে এমন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে যাতে মেয়েটি সুইসাইডের পথ বেছে নেয়। এমনকি মেয়েটিকে তার পরিবারের পক্ষ থেকে যাদের দায়িত্ব দিতে চায় তাদের সাথে নিকৃষ্ট সম্পর্কের কথা বলে তার স্বামী। তাদেরকে মজা দেখাবে বলে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে হুমকি দেখায়। তবুও মেয়েটি নিজেকে সামাল দিয়ে আশ্রয় নেয় আইনের।
মেয়েটির পরিচিত ব্যক্তিরা ছেলেটিকে যদি সংসার করার কথা বলে সে হেসে উড়িয়ে দেয়। তার পরিবারের সাথে কথা বলতে চাইলে সে বলে- আমার পরিবার নাই। আমি একা। আমার কেউ নেই। তার কথাবার্তায় এটা ফুটে উঠে যে সে শুধু মাত্র মেয়েটিকে আবার ভোগ করতে এবং তার থেকে ইনকামের টাকা পাওয়ার আশায় মিশতে চাই।
বিষয়টি পল্লবী থানার ওসি কে বিষয়টি অবগত করলে তিনি মেয়েটিকে ভরসা দেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিশেষভাবে এস আই সামিউলকেও বলে দেন৷
এক পর্যায়ে মেয়েটি নিকটবর্তী থানায় সাধারণ ডায়েরী করলে এস আই সামিউল বিষয়টি তদন্তের দায়ভার গ্রহণ করে। ছেলেটি বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাকে ধরার কার্যক্রম চলমান থাকবে, এমনটি বলেছে এস আই সামিউল।