মান্দায় ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে পুলিশের মামলা, গ্রেপ্তার ৪

সাজ্জাদুল তুহিন, নওগাঁ:
নওগাঁর মান্দায় সরকারি কাজে বাধা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মন্ডলকে প্রধান আসামি করে ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৫ এপ্রিল) ৪ জন আসামিকে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
এর আগে গতকাল রোববার রাতে মান্দা থানার এএসআই নান্নু মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, ভালাইন ইউপির জামদই গ্রামের আব্দুর রহমান পিন্টু (৩৫), একই গ্রামের মাহাফুজুর রহমান (২০), গোড়রা গ্রামের মোশারফ হোসেন বাবু (৪২) ও বৈদ্যপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৩২)।
পুলিশের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভালাইন ইউপির জামদই গ্রামে আকবর আলী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে রেখেছেন প্রতিপক্ষের লোকজন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে। এমন সংবাদে মান্দা থানার সহকারী উপপরিদর্শক নান্নু মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ আকবর আলীকে উদ্ধারের জন্য থানা থেকে জামদই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বৈদ্যপুর বাজারের চারমাথা মোড়ে পৌঁছালে ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাসহ তাঁর কয়েকজন সহযোগী এএসআই নান্নু মিয়াকে দাঁড় করান। তাঁরা জানতে চান এত সকাল সকাল কোথায় যাচ্ছেন। পথ আটকিয়ে চেয়ারম্যান ও তাঁর সহযোগীদের এসব প্রশ্নে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন এএসআই নান্নু। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।
মামলার বাদী এএসআই নান্নু মিয়া জানান, চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ও তাঁর লোকজন আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। পথ আটকিয়ে ঘটনাস্থল জামদই গ্রামে যেতেও বাধা প্রদান করেন। পরে বিষয়টি ওসি স্যারকে অবহিত করা হলে থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স গিয়ে আমাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাসহ তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ভালাইন ইউপির চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মন্ডল জানান, এএসআই নান্নু ভাইয়ের সাথে ভুল বোঝাবুঝির জের ধরে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। এছাড়া অন্য কিছু ঘটেনি। এই কথা কাটাকাটির জেরে আমার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলাটি করেছে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে গোলাম মোস্তফাকে প্রধান আসামি করে এএসআই নান্নু মিয়া বাদী মামলা দায়ের করেছেন। আজ মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে নওগাঁ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।