ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুকুলে ভরে গেছে লিচু বাগান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
শেখ রাজেন
নতুন করে মুকুল আসতে শুরু করেছে লিচু গাছে। লিচুর মুকুলে থেকে বাতাসে ভেসে আসছে মহোময় সুগন্ধি। হলুদ আর সবুজে যেন এক মহামিলনে পরিণত হয়েছে লিচু বাগানগুলো। মৌমাছির গুন গুন শব্দে মনের আনন্দে ভিড়তে শুরু করেছে লিচু বাগানে। মুকুলের সুমিষ্টি সুবাস আন্দোলিত করে তুলেছে মানুষের মনও। সেই সাথে লিচু মুকুলে যেন প্রকৃতিকে সাজিয়েছে ভিন্ন রকম অপরূপ সৌন্দর্যে। আর এই অপরূপ সৌন্দর্যর দেখা মিলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায়।
 সরেজমিনে ঘুরে কথা বলে জানা যায়,  চলতি বছর জেলায় ৫১০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিজয়নগর উপজেলায় ৩৭৫ হেক্টর রয়েছে। বিজয়নগর উপজেলায় ভিটিদাউদপুর, খাটিংগা, বিষ্ণুপুর, ছতুরপুর, কালাছড়া, বক্তারমুড়া, শ্রীপুর, নোয়াগাও, পত্তন, আদমপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর, পাহাড়পুর, সেজামুড়া, কামালমুড়া, গিলামুড়া, জলিলপুর ও মুকুন্দপুর বেশ কয়েকটি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ হচ্ছে। ওইসব এলাকায় বাগানে দেশী লিচু, এলাচি, চায়না, পাটনাই ও বোম্বাই লিচু চাষ করা হয়। এখানকার মাটি লিচু চাষের উপযোগী হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। সুস্বাদু রসালো এ ফলটি মানুষের কাছে দিনদিন সমাদৃত হচ্ছে ভিন্ন স্বাদে।
আরেক চাষি আব্দুল মিয়া জানান, এ বছর লিচু বাগানগুলোতে মুকুল অনেক ভালো এসেছে।  যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাগানগুলো রক্ষা পায়, তাহলে এ বছর বিজয়নগরে লিচুর ফলনে কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন।
স্থানীয় লিচু চাষী রহিম মিয়া বলেন, এ বছর আগে বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলায় লিচুর গাছগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গাছে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে লিচু বাগানগুলোতে পাতার ফাঁকে ফাঁকে দেখা মিলছে লিচুর মুকুলের।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ জানান, এখানকার মাটি লিচু চাষের জন্য খুবই উপকারী। লিচুর ফলন বৃদ্ধিতে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ অঞ্চলের লিচুর খ্যাতি রয়েছে জেলাসহ দেশজুড়ে।