বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

রাশেদ ইসলাম :
স্বাধীন বাংলাদেশ আমাদের প্রাণের গর্ব ও গৌরবের বাঁশি  বিজয় দিবস। একাত্তরে স্বাধীনতা অর্জনে আমাদের সার্বিক প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে কতটা পূরণ হয়েছে নাকি আদৌও পূরণ হয় নি! বিষয়টি তখনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন আমরা গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখব স্বাধীনতা পরবর্তী অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তবে আমরা নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি কথাটা যেমন চিরন্তন সত্য। ঠিক তেমনি এটাও সত্য যে পাকিস্তানি দস্যুদের কাছে বাঙালিরা জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার, শোষণ আর বঞ্চিত হয়েছিল। এ কথা অবিশ্বাস করার কিছুই নেই কারণ কেউ হয়তো শুনেছি সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে, কেউ শুনেছি নিকটতম আত্মীয় স্বজনের কাছে আবার স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ ইতিহাসের পাতায় পড়েছি। ফলে পাকিস্তানি শাসকের চরিত্র আমাদের কাছে স্বচ্ছ। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট চালিয়ে ঘুমন্ত নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও গণহত্যার মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করে। কেন যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল? এ যুদ্ধ তো একদিনে সংগঠিত হয়নি! ২৫ বছর ধরে পাকিস্তানিরা বাঙালিদের শোষণ করেছিল। বাংলার বীর সন্তানেরা তিলে তিলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। পাকিস্তানি শাসক প্রথম নিরীহ বাঙালির অস্তিত্বের উপর আঘাত হানে যা হল ভাষা উপর। ওরা আমাদের মুখের ভাষা ‘মাতৃভাষা’ কেড়ে নিতে চেয়েছিল কারণ তারা জানত একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে সেই জাতির ভাষাকে ধ্বংস করলেই যথেষ্ট। ফলে বাঙালিকে ধ্বংস করতে তাদের প্রথম নজর পড়ে ভাষার উপর। কিন্তু বাঙালি বীরের জাতি রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে মুখের ভাষা রক্ষা করেছিলেন। এর পর ৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ৬ দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০- এর নির্বাচনসহ দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতি ৭১ সালে এসে উপনীত হয়। অত্যাচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনে পরিণত হয়।
১৯৭১ সালের ২৫ থেকে জেনারেল নিয়াজির এক লাখ পাকিস্তানি সেনাসদস্য কিছু বাঙালি দালালদ অর্থাৎ রাজাকার, আলবদর ও আলসামদের নিয়ে বাঙালির উপর তাণ্ডব চালিয়ে ত্রিশ লক্ষ মানুষের জীবন ও দুই লক্ষ মা ও বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছিল। চারিদিকে ঘর বাড়ি জ্বালাও, পড়াও আর মানুষের কান্নার আওয়াজ এ দেশ যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল। দেশের প্রতিটি মানুষ জীবন-মৃত্যুর শঙ্কা নিয়ে  খেয়ে না খেয়ে পথে ঘাটে ঘুরে বেড়িয়েছিল। পাকিস্তানি শাসক ধর্মের নামে রাজনীতি করে কৃষকের কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করেছিল, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত করছিল, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করছিল, চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করছিল, সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করছিল, ধর্মের নামে বিভাজন, বাঙালি জাতির নেতা নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি ইত্যাদি ঘোরতর অন্যায়-অবিচার ও চূড়ান্ত বর্বরতার মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানিরা জাতাঁকলে পিষ্ট করছিল।
মানবমুক্তির স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে পাকিস্তানকে পরাজিত করেছিল বাংলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিনটিতে সারা দেশের আবালবৃদ্ধবনিতা আনন্দে-উল্লাসে ফেটে পড়ে, অভ্যুদয় ঘটে বিশ্বের বুকে বাঙালির একটি স্বাধীন রাষ্ট্র যার নাম হয় বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশে তখন ভৌত, অবকাঠামো, রাস্তাঘাট-ব্রিজ-যানবাহন, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন ইত্যাদি প্রায় সবকিছুই বিধ্বস্ত। সেই সাথে বিশ্বমন্দা ও নানা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। বন্যা, খাদ্যাভাব, সামাজিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি। নিঃস্ব, সহায়-সম্বলহীন কোটি শরণার্থীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ বিষয়। সেই চ্যালেঞ্জের বিষয় গুলো নিয়ে আমাদের দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকার গঠন করে এবং বিভিন্ন সরকারের পালাবদল করে আজকে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ তম বিজয় দিবস চলছে। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে স্বাভাবিক ভাবে একটা প্রশ্ন চলে আসে কেমন আছে বাংলাদেশ? মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কী দেশে শাসন ব্যবস্থা চলে?
রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের পবিত্র সংবিধানের চার মূলনীতি মধ্যে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ কী যথাযথ ভাবে কার্যকর আছে?
আমরা পাকিস্তান শাসকদের শাসন আমল ও বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশের শাসন আমল মূল্যায়ন করে দেখতে চাই। যে সত্যিকারে কী মানুষ শোষণযন্ত্র থেকে মুক্তি পেয়েছে? সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দেখলে বুঝা যায়, আমাদের দেশে চরমতম রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচন নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন, রক্তারক্তি, গুম ও খুন যেন নিত্যদিনের ঘটনা। ঘরে বাইরে নারী নির্যাতন, কলকারখানায় লুটপাট ও আগুনে শ্রমিকের কান্নায় বলে দিচ্ছে শ্রমিকেরা শোষিত।  মুনাফাখোর, মজুতদার ও চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্যতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অবিশ্বাস্য অগ্নিমূল্য। সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই। ফলে সড়কে ছাত্রদের চিৎকার ও কান্নায় সংবাদমাধ্যমে হৈচৈ। সুন্দরবন সহ প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়নের বাজিমাত। বারশত নদীর দেশে নদীগুলো বিলীন হয়ে খালে পরিণত, শিক্ষা ব্যবস্থা বাণিজ্যিকীকরণ, ধনী গরিবের বৈষম্য যেন পিরামিড আকৃতি, যৌন সহিংসতা থেকে আত্মহত্যা বেড়েই চলছে, দেশে গণপিটুনিতে হাজার হাজার মারা

গেছে, শহরে বস্তির সংখ্যা বেড়েই চলছে, ধান চাষিরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ধানে আগুন ও আত্মহত্যার খবর কানে আসে। ফলে কৃষককের কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নেই, করোনাভাইরাস এসে চিকিৎসা খাতের নাজুক অবস্থা প্রকাশিত হয়েছে, গরিবের ত্রাণ চুরি, পাথর – কয়লা সহ জাতীয় সম্পদ চুরি, দুর্নীতি আর লুটপাট মহোৎসব ইত্যাদি সহিংসতা ব্যক্তি ও সমাজকে ক্ষত- বিক্ষত করেই চলছে। তাহলে এই সহিংসতা উপহার পাওয়ার জন্য কী আমাদের দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিল? রক্ত দিয়ে যুদ্ধ করছিল মানব মুক্তির জন্য। গর্বের বিষয় এখনও বাংলার বীর সৈনিক মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে আছেন। এই স্বাধীন দেশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারাই খুবেই উদ্বিগ্ন কারণ তারা এখনও বলছে দেশের এই সহিংসতা দেখার জন্য তো যুদ্ধ করেনি। তাহলে মেনে নিতেই হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আজ বিপন্নতার পথে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কেন বিপন্নের পথে? কারণ এদেশে ব্যবসায়ীদের একাংশ রাজনীতির মধ্যে প্রবেশ করে নিজেদের মত মুনফা লুটে নিচ্ছে। তাদের দেশপ্রেম কোনো লক্ষ্য নয় তারা তো বাণিজ্য করতে কৌশলে রাজনীতিতে প্রবেশ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলতেছে। একটু বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের হলফনামায় কেমন করে রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের উত্থান হয়েছে। স্বাধীনতার দুই বছর পর প্রথম নির্বাচনে ১৯৭৩ সালে সংসদে ব্যবসায়ী ছিলেন ১৫ শতাংশ।  ১৯৯০ সালের পর থেকেই রাজনীতিতে ‘ পরিবর্তন আসতে শুরু করে।  ১৯৯৬ সালে ব্যবসায়ী এমপির হার হয় ৪৮ শতাংশ,  ২০০১ সালের সংসদে এ হার দাঁড়ায় ৫১শতাঙশ। ২০০৮ সালে মোট এমপির ৬৩ শতাংশ  ছিলেন ব্যবসায়ী। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোট এমপির  ৫৯ শতাংশ ব্যবসায়ী। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদে এমপিদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪০ শতাংশ। ব্যবসায়ীদের পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে কোন পথে যাচ্ছে বাংলাদেশ! রাজনীতি যদি রাজনীতিবিদদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত না হয়ে ব্যবসায়ীদের দ্বারায় নিয়ন্ত্রণ হয় তাহলে সেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে না বরং মানুষ  শোষিত হতেই থাকবে! বাংলাদেশ ১৯৭২ থেকে ২০২০ সাল সময়ে খাদ্যোৎপাদনে ৯.৮ থেকে ৩৫.৩ মিলিয়ন টনে উত্তীর্ণ হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে পাট ও কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, ধান ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে আমাদের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৩ হাজার  মেট্রিক টন হয়েছে। কৃষি খাতের এ সাফল্যের মূল নায়ক অদম্য সেই কৃষক। কৃষিতে উৎপাদন বাড়লেও ভূমিহীনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে আমাদের দেশে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা ৪০ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯টি, যা শতকরা হিসাবে দাঁড়ায় ১১.৩৩ শতাংশ। কেন দিনের পর দিন ভূমিহীনের সংখ্যা বাড়ছে? আমাদের দেশের কৃষকরা কাঠামোগত সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তার পরও মাতৃভূমির স্নেহের ভালোবাসায় মাঠে সোনালী ফসল উৎপাদন করে। কিছু হাইব্রিড নেতা লুটপাট করে পালিয়ে যায় বিদেশের মাটিতে।
সম্প্রতি ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীদের মানসিক নিপীড়নের কারণে অধ্যাপক সেলিম এর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই একই ভাবে বুয়েটের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছিল। ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বুয়েট ও কুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মৃত্যুতো ছাত্র রাজনীতির জন্য ঘটেনি, ঘটেছে ক্ষমতাসীনদলের পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগের  সন্ত্রাসী রাজনীতির জন্য। গুটিকয়েক ছাত্রদের জন্য ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্য কেন হারিয়ে যাবে?  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি থাকলে ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা সুযোগ থাকবে। সেই সাথে সকল মত ও পথের গণতান্ত্রিক চর্চা থাকবে তাহলে ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীরা অপকর্ম  করতে পারবে না। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসী রাজনীতি বন্ধ হোক।
বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে আমাদের দেশের নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে হয়। ধর্মের অবমাননা গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করা, সারাদেশে নারী-শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন-হত্যা এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দুই বছরের শিশুকন্যা থেকে শুরু করে বৃদ্ধাসহ যেকোন বয়সের নারী সে হিন্দু হোক বৌদ্ধ হোক, খ্রীষ্টান হোক অথবা মুসলমান হোক যেকোন ধর্মের নারী পাহাড় বা সমতল, ঘরে-বাইরে, স্কুল-মাদ্রাসা, কলকারখানা যেকোন স্থানে, দিনে কিংবা রাতে যেকোন সময়ে বাংলাদেশের একজন নারী নির্যাতনের শিকার হন। এমনকি সমমজুরি আইনে থাকলেও বাস্তবে প্রায় সমস্ত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারী পুরুষের তুলনায় কম মজুরি পেয়ে থাকেন। সম্পত্তি বণ্টনবৈষম্যের আচারণে শিকার নারী সমাজ। নারী তো পণ্যের বস্তু নয় তাহলে তাদের অধিকার থেকে কেন বঞ্চিত করা হচ্ছে?
মানুষ সহিংসতা বলতে কেবল শারীরিক খুন, জখমই বুঝে কিন্তু বাস্তবে সহিংসতা মানসিক ও আবেগগত ভাবে ঘটে। দেশের মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঠামোগত সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কখনও কখনও সেই সহিংসতার বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করার চেষ্টাও করে। কাঠামোগত সহিংসতা থেকে মানুষকে মুক্ত করার জন্য প্রয়োজন একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শিক্ষাকে পণ্যে নয় সকলের মৌলিক অধিকার হিসাবে নিশ্চিত করা হবে, নারীকে পণ্য হিসাবে নয় মানুষ হিসাবে মানবিক মর্যাদা দিবে, চিকিৎসা সেবাকে বাণিজ্যিক নয় মৌলিক অধিকার হিসাবে প্রাধান্য পাবে, কৃষককের কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হবে, বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা হবে, ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন ব্যবস্থা হবে, মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, সর্বক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু থাকবে, একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনা হবে তাহলে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দিবসে আবালবৃদ্ধবনিতা আনন্দে-উল্লাসে আবারও ফেটে পড়বে। বিজয়ের উল্লাস ম্লান হয়ে যাক আমরা তা কেউ চাই না। আমরা বাঙালি জাতি যে বীরের জাতি তখনি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব যখন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালিত হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধ নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। সেই প্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রের অতীত ভুল ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি সুখি সমৃদ্ধশালী সাম্যের সমাজ ও দেশ গড়াতে জনগণের পাশাপাশি রাষ্ট্রকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।