বালাপাড়ার চার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চাই

মতামত :
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। বাঙালি ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরা পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর কাছে দীর্ঘ ২৫ বছরের শোষণের জাঁতাকলে পৃষ্ঠ হয়েছিল। বাঙালি ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ছিল নিরস্ত্র। আর যুদ্ধটা করেছিল সশস্ত্র। একাত্তরের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শোনার জন্য রেডিও’র সামনে বসে থাকতেন। খুব ভালো ভাবে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে শুনেছেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এ ভাষণ শোনার পর থেকেই নীলফামারী জেলার শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা ভাবতে শুরু করলেন দেশ ও জাতির জন্য কিছু একটা করতে হবে। কয়েক দিন পর ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানিরা যুদ্ধের সূচনা করেন। পাক হানাদার বাহিনী আক্রমণ করলো ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে। শুরু হলো হত্যা ও নির্যাতন। দেশকে স্বাধীন করতে জীবন বাজি রেখে যারা যুদ্ধ করেছিলেন তাদেরকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান (মুক্তিযোদ্ধা) হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও সম্মানি না পাওয়া চারজন মুক্তিযোদ্ধা কাগজ হাতে নিয়ে বিভিন্ন অফিস আদালতে ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে নিজেদের  মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে প্রমাণ করতে। এর মধ্যে একজন মোঃ মহুবর রহমান। তিনি নীলফামারী জেলা ডিমলা উপজেলার ২নং বালাপাড়া ইউনিয়নের ভাসানী পাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুদ্ধে অংশ নিতে ৬ নম্বর সেক্টর কোম্পানির কমান্ডার আছির উদ্দিন এর মাধ্যমে দেওয়ানগঞ্জ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণে যান মোঃ মহুবর রহমান। পরে আব্দুল খালেক এর মাধ্যমে ভারত ইয়ুথ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ করেন তিনি। সেখান থেকে ফিরে এসে  বুড়িমারী হেডকোয়ার্টার ধরলা নদীর বিশাল মাঠে সর্বশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে রাইফেল হাতে নিয়ে দেশকে হানাদার মুক্ত করার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বুড়িমারীতে যুদ্ধকালীন সময়ে মহুবর রহমানের তিন জন সহযোদ্ধা ছিলেন মোঃ আমিরুল ইসলাম, মোঃ আশরাফ আলী, মোঃ হাফিজুর রহমান। তারা তিন জনেই এখন গেজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দী পর একাত্তরের টগবগে যুবক এখন বয়সের ভারে খুব একটা চলতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে অনেক চেষ্টা তদবির করেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম লিপিবদ্ধ হয়নি। তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি না হওয়ায় তিনি বঞ্চিত রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে পারছেন না তিনি। নিজ গ্রামের মানুষসহ উপজেলার অন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহুবর রহমানকে  মুক্তিযোদ্ধা বলে ডাকলেও কাগজে-কলমে তার স্বীকৃতি মিলেনি স্বাধীনতার ৫০ বছরেও। ৬৫ বছর বয়সী মহুবর রহমান অলস সময়ে ঝাপসা চোখে এখন শুধু মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রোমন্থন করেন।
চারিদিকে গোলাগুলি মানুষ প্রাণ বাঁচার জন্য ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছে ভারতে। কিন্তু দেশ থেকে পালিয়ে না যেয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি হলেন, মোঃ মজিবর রহমান। তিনি নীলফামারী ডোমার উপজেলার বাগ ডোকবা ইউনিয়নের মৃত সহিমুদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি ডিমলা উপজেলার ২নং বালাপাড়া ইউনিয়নের ১নং  ওয়ার্ডের ছাতনাই বালাপড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। পরিবারের সাত সন্তান-সন্ততি নিয়ে অভাবে জীবন যাপন করছেন। তার সবুজ মুক্তিবার্তা নাম্বার ০৩১৫০২০১৬৬। তিনি ১৯৭১ সালে ৬ নভেম্বর ভারতের কুচবিহার জেলার হলদিবাড়ী থানার দেওয়ানগঞ্জের ইয়ুথ ক্যাম্প নামক জায়গায় প্রথম যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে  বুড়িমারী হেডকোয়ার্টার ধরলা নদীর বিশাল মাঠে সর্বশেষ প্রশিক্ষণ ৬ নম্বর সেক্টর কোম্পানির কমান্ডার আছির উদ্দিন এর নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
সকাল বেলা পূর্ব দিগন্তে লাল রক্তাক্ত সূর্য ওঠেছিল। গ্রামে হঠাৎ গুলির শব্দ। পাক-হানাদার বাহিনীর একটি গুলি এসে মোঃ সুরুজামালের ডান পায়ে লেগেছিল। গুলিবিদ্ধ পা নিয়ে গোপনে চলে যান মুক্তিযোদ্ধার ক্যাম্পে। গুলি যেহেতু লেগেছে তাহলে ঘরে বসে থেকে লাভ নেই। জীবন যদি দিতেই হয় দেশের মুক্তির জন্য লড়াই করে জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলেন। তাই তিনি ভারতের কুচবিহার জেলার হলদিবাড়ী থানার দেওয়ানগঞ্জের ইয়ুথ ক্যাম্পে প্রথম যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তার ডাকনাম মুক্তি ভাটিয়া। তিনি নীলফামারী জেলা ডিমলা উপজেলার ২নং বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাতনাই বালাপড়া গ্রামের মৃত মনছের আলী ছেলে। ৬ নম্বর সেক্টর কোম্পানির কমান্ডার আছির উদ্দিন এর নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তার সবুজ মুক্তিবার্তা নাম্বার ০৩১৫০২০১০৯। তিনি গুলিবিদ্ধ পায়ের ক্ষতচিহ্ন নিয়ে প্রতিবছর শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে শুধু চোখ জল ফেলে যান। কারণ জানতে চেয়ে তিনি বলেন এই সমাজে কী আমার কোনো মূল্য নেই! তার এই প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্র তখনি দিতে পারবে যখন রাষ্ট্র তাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিবে। বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হলেও এখনও মুক্তি ভাটিয়ার ক্ষতচিহ্ন দাগ স্পষ্ট হয়েছে পাকিস্তানীদের নির্যাতনের চিহ্ন।
আগুন! আগুন! মজিবর নাউয়ার বাড়িতে আগুন! গ্রামের লোকজন চারদিকে চিৎকার করছে। গত বছর ২৭ ডিসেম্বর  তার বাড়িতে আগুন লাগে। চিৎকার শুনে ছুটে যাই আগুন আগুন নিভাতে। যেয়ে দেখি তার ছোট্ট একটি কুঁড়ের ঘরে আগুনে জ্বলছে। হাউমাউ করে কান্না করছে। আগুন লাগার দায়ি অবশ্য তিনি নিজেই কারণ এখন তার বয়স ৬৯  বছর। এই বৃদ্ধ বয়সে তিনি নিজেই রান্না করে খাবার খান। তিনি  পেশায় নাপিত। রান্না শেষ বাড়ির উঠানে এক মানুষের মাথার চুল কেটে দিচ্ছেন এমন সময় রান্না ঘরের বেড়ার কাছে আগুনের ফুলকি থেকেই আগুনের উৎপত্তি ঘটে। মহূর্তে তার রান্না ঘর অঙ্গার হয়ে যায়। তার আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর  নতুন ভাবে তৈরী করলে হয়তো তার সমস্যা সমাধান হবে কিন্তু স্বাধীনতার পঞ্চাশ টি বছর ধরে বুকের ভীতরে আগুনের দহন নিয়ে জীবন সংগ্রাম করছে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পাওয়া মজিবর রহমান। তার ডাক নাম নাউয়া। নীলফামারী জেলা ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ঝাকুয়া পাড়া গ্রামের মৃত কাফোর উদ্দিনের ছেলে। তিনি ১৯৭১ ভারতের কুচবিহার জেলার হলদিবাড়ী থানার দেওয়ানগঞ্জের ইয়ুথ ক্যাম্প নামক জায়গায় কমান্ডার মশিয়ার রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধের প্রশিক্ষণরত মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসাবে কাজ করেছিলেন। সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার সহযোদ্ধারা সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি পেলেও তিনি সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি পাননি। গ্রামে পাড়া প্রতিবেশির কাছে সহযোগিতা নিয়ে তার পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এখন অন্যের জমিতে দুইটা কুঁড়ের ঘর তৈরী করে জীবনযাপন করছেন। বৃদ্ধ বয়সেও পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে মানুষের চুল কেটে যে টাকা পায় তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে ধুকে ধুকে জীবন কাটান। একজন মুক্তিযোদ্ধা যখন রাষ্ট্রের বৃদ্ধ ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। তখন রাষ্ট্রের উচিত বিষয় গুলো গুরুত্বসহ আমলে নিয়ে এর সমাধানের প্রকৃত পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের কমান্ডার মোঃ আছির উদ্দিন বলেছেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আমরা একসাথে ৬ নং সেক্টরে যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমরা সবাই গেজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের ৫০ বছরেও তারা চারজন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিও পেলেন না। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই অবিলম্বে তাদের যেন গেজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বিজয় দিবস মানে উল্লাস, আনন্দের ঘনঘটা। রাতে জেগে থাকতাম কখন ১৬ ডিসেম্বর রাত ১২ টায় ১ মিনিট হবে কারণ তোপধ্বনির শব্দ শুনতে হবে। বাবা খুব ভোরে উঠে বাঁশের চাটা দিয়ে বাগান থেকে ফুল নিয়ে সুন্দর করে ফুলের মালা তৈরী করতেন। আমি বাবাকে সহযোগিতা করতাম। বিজয় দিবসে সকালের ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে বাবার সাইকেলে চড়ে  হাতে ফুলের ডালা নিয়ে বাবার পার্টি অফিসে যাইতাম। ফলে আমার বাল্যকাল থেকে বাবার হাত ধরে আমাদের গ্রামের বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে আবেগ অনুভূতির জায়গায় তৈরী হয়েছে বালাপাড়া বধ্যভূমির প্রতি। বিশেষ করে এই বধ্যভূমিতে শহীদ হয়েছেন ১১ জন।সকালের কনকনে শীতের হিমেল বাতাসে বইছে বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ভীর জমাচ্ছে বালাপাড়ার বধ্যভূমিতে শহীদদের সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো জন্য।সেই সাথে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরাও এসেছে বালাপাড়া বধ্য ভূমি স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে। শহীদ পরিবারের ১১ জন বধ্যভূমির প্রতি মলিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। হাতে ফুল নিয়ে বধ্যভূমির সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে পারছেন স্বীকৃতি না পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মহুবর রহমান। খুব কষ্ট করে কাঁপতে কাঁপতে শহীদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাকে জিজ্ঞেস করলাম দাদু আপনার একটা ছবি তুলতে পারি? তিনি তৎক্ষনাৎ উত্তর দিলেন না ছবি তুলতে হবে না। আমি থমকে গিয়ে ক্ষাণিকক্ষণ পরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম দাদু ছবি তুলতে নিষেধ করলেন কেন? তিনি বললেন আজ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধারাই বৈষম্যের শিকার কেন? কেন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে স্বীকৃতি পেতে অফিসে অফিসে ঘুরে বেড়াতে হবে? তার দুই প্রশ্ন আমার কাছে পাহাড় সমান ওজন মনে হল। শীর্ণদেহ, মাথার চুল গুলো পেকে সাদা হয়ে গেছে। মানবমুক্তির স্বপ্ন বুকে লালন করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের জীবন বাজি রেখে দেশে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী কবল থেকে দেশকে রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার ও বিজয় দিবসের ৫০ তম বছরে এসে তিনি আক্ষেপ করে বললেন এখনও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন না। রাজনীতি টা অপরাজনীতি হয়েছে। সব কিছুই যেন আজ পণ্যে পরিনত হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতেও তাঁর কোনো সুরহা হল না। কেন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে প্রমাণ দিতে ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়াতে হবে? তার যে প্রমাণাদি রয়েছে, এতে তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এর কোনো সন্দেহ নেই।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া এখন তার অধিকার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে মহুবর রহমান, মজিবর রহমান, সুরুজামাল এবং মজিবর রহমান ( নাউয়া) এর মত শত শত প্রকৃত  মুক্তিযোদ্ধা। তারা আজ টাকার অভাবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারছেন না তারা মুক্তিযোদ্ধা। রাজাকারদের পেশি শক্তি ও অর্থের দাপটের কারণে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারের নাম উচ্চারণ করতেও ভয় পায়। বিভিন্ন সময় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা নানা কৌশলে, রাজনৈতিক

সুবিধা নিয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছেন৷ কিন্তু অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হননি৷ অনেকে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন৷ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতে না পারা জাতির জন্য লজ্জাজনক বিষয়। ফলে ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা পরাজিত হোক তা কেউ চায় না। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হলেও তারা যেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পান। তাদের কান্না আমরা আর দেখতে চাই না। বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীকে বিতাড়িত করার মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিনিয়ে এনেছে। ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা কখনও তাদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেননি। মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে এ দেশের স্বাধীনতা এনেছেন, পরবর্তী প্রজন্মকে স্বাধীনভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছেন। সেই বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা আজকে অবহেলিত হবে কেন? তাদের অনেক বয়স হয়েছে যেকোনো দিন মারা যেতে পারেন। কিন্তু মরার আগেই অন্তত মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তারা যেন নিজের নামটি দেখে যেতে পারে। তাই নতুন বছরের প্রত্যাশা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
 লেখক: রাশেদুজ্জামান রাশেদ,
প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।