বরগুনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

অলিউল্লাহ ইমরান
বরগুনা প্রতিনিধিঃ
বরগুনা সদরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসবে মেতে উঠেছে কুচক্রী মহল। বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ছোট ড্রেজার (গ্রামের ভাষায় বোমা) মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হলেও রহস্যজনক কারণে কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকা পালন করছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আমজেদ মার্কেট বাজার সংলগ্ন খাল থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের চিত্র দেখা গেছে। এখানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, আমজেদ মার্কেটের এই খালে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করে চলেছে। এতে খালের পানি প্রবাহ কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি জমি ও বসতভিটাও পড়েছে হুমকির মুখে। পাশপাশি মেশিনের বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে আশপাশের মানুষেরা।
অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা ক্ষমতাসীন ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে উপজেলার বেশ কিছু স্থানে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ওইসব স্থানে মেশিন ও বালু কাঁদা বা পরিবেশ দেখে যে কারো মনে হবে যেন অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।
আর যত্রতত্র ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে রাস্তাঘাট ও বাঁধ নষ্ট হয়ে একদিকে যেমন চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে অন্যদিকে ধুলা স্তুপ পড়ে গেছে। এসব ধুলার কারণে বাসা-বাড়িতে থাকার অযোগ্য পরিবেশ হয়ে পড়েছে। অনেকেই এসব ধুলা বালির মধ্যে চলাচল করায় নানা ধরনের শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী তাদের চলাচলের রাস্তাঘাট, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নষ্ট হওয়ায় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের কাছে জানালে তারা ঘটনা স্থলে এসে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি। বালুদস্যুরা অসাধু কিছু লোকের সাথে আতাঁত করে নির্বিচারে বালু ব্যবসা করে আসছে দিন দিন।
বালু উত্তোলনকারী মিঠু ও মেহেদী (দুই ভাই)  বলেন, বালু উত্তোলন করছি কিন্তু এ মেশিন আমাদের না এটার মালিক চরকগাছিয়া অ্যাড. রিপন মোক্তার, এটা সে বুঝবে সে চেয়ারম্যানের ডান হাত। আমরা শুধু এটা দেখবাল করি। এই এলাকায় তো আরো অনেক এই মেশিন দিয়ে বালি উঠায়! তাদেরকে আগে বলেন, তারপর আমরা দেখি কি করা যায়!
অ্যাড. রিপন মোক্তারকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি চালাই তাতে কি হইছে! ম্যাজিস্ট্রেট আসলে আমি বুঝবো। আপনারা লিখে দিন বরগুনায় অবৈধ ভাবে বালু উঠায়! তাতে দেখি কি হয়!
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বুড়িরচর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষেরা জেল প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাওসার আহমেদ বলেন, আমার কাছে হটাস অ্যাপ এ ছবি ও তথ্য দিন। আমি দেখে এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নিবো।