ই-কমার্সের আওতায় কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে অন্তত এক লাখ তরুণ-তরুণীর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দিন দিন ই-কমার্স ব্যবসা জনপ্রিয় উঠেছে। এর জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে ততই এর সুফল বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করেন কিউকমের সিইও জনাব মোঃরিপন মিয়া। অনলাইনে এমন ব্যবসার অন্যতম দিকগুলোর মধ্যে প্রধান হলো এর গ্রহণযোগ্যতা।
ই-কমার্সের ফলে পণ্যের মার্কেট দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়। কারণ, ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের পণ্যগুলোকে ভৌগলিক সীমানা ও দূরত্ব পেরিয়ে ক্রেতার কাছে কম সময়ে পৌঁছে দিচ্ছে। দেশি পণ্যের প্রসারে ই-কমার্সের এই সুফলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এক জেলার পণ্য অন্য জেলায় পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে সেই পণ্য গুলোর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে ও কর্মসংস্থানের হার বাড়ছে।
রিপন মিয়া বলেন,ই-কমার্সের কারনে গতানুগতিক ধারায় মার্কেটে জনসমাগমের হার কমছে ও অনেক মানুষ অনলাইনে কেনাকাটার উপর নির্ভরশীল হচ্ছে। এর ইতিবাচক দিক কোভিড-১৯ এর সময় পুরো বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে নারীদের কর্মসংস্থান, সাবলম্বী হওয়ার হার ও নারীদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীরা এখন ঘরে বসেই ই-কমার্সের সুবাদে কাজ করে নিজের পরিচয় তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছে।
দেশি পণ্যের প্রসার ও প্রচার এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বর্তমানে কার্যকরী মাধ্যম হলো ই-কমার্স। তাই এই সেক্টরে দেশি পণ্য এবং দেশি পণ্যের উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ার প্রভাব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। একই সঙ্গে ই-কমার্সের সুফল সম্পর্কে সকলকে অবগত করার জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। যেনো এই সেক্টরে জনগণের অংশগ্রহণ ও নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
জানা গেছে, ই-বাণিজ্য বা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিকাশে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে ৫ হাজার ই-কমার্স উদ্যোক্তা তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই কর্মসূচীর আওতায় যারা চাকরি না খুঁজে উদ্যোক্তা হয়ে বেকারদের চাকরি দিতে চান-এমন সব সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার।
বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসার যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ওই সময় দায়িত্ব নেয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় সর্বপ্রথম ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের এক যুগান্তকারী দর্শনের নাম। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠে ই-বাণিজ্য। শুরুতে ২০১০-১১ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্সে মোট ব্যবসার পরিমাণ ছিল ৮০ কোটি টাকা। এর পরের বছর ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি হয়ে থাকে। বর্তমান প্রবৃদ্ধিও শতভাগের ওপর। এ কারণে দেশে ই-কমার্সের বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।
ই-কমার্সের আওতায় কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে অন্তত এক লাখ তরুণ-তরুণীর। এছাড়া ই-কমার্স সম্প্রসারণ হলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর একটি সুষম বণ্টনের সুযোগ তৈরি হবে। ভোক্তারা ব্যবসায়ীদের কাছে ভাল সেবা পাবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রূপকল্প-২১, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে যাওয়া, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন পূরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হলে ই-কমার্স খাত দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।