সরাইলে জমে উঠেছে গরু-মহিষের হাট

মোঃ ফুজাইল
সরাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।
ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে সরব সরাইলের গরুর হাট।
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল সদর (বড্ডাপাড়া এলাকায় অবস্থিত) গরু বাজারে জমে উঠেছে কোরবানির হাট।
আজ সোমবার  সকাল থেকেই সরাইল গরুর বাজারে  দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকভর্তি গরু মহিষ আসতে শুরু করে।
দুপুরের পরই কোরবানির পশু দিয়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় হাট। হাটে বড়, মাঝারি ও ছোট সাইজের প্রচুর গরু উঠছে।
সরেজমিনে এসে দেখা যায় , সরাইল গরু বাজারে
ভেতরে কোনো ধরনের জায়গা নেই। হাটের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গবাদি পশুতে ঠাসা। প্রবেশ মুখেও রাখা হয়েছে গরু-ছাগল।
বাজারের ভেতরে সড়কের দু’পাশে সারি সারি গরু মহিষ  দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সড়কের পূর্ব  ও পশ্চিম  খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে শত শত গরু মহিষ।  পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য ছাগল।
সপ্তাহে শুক্র এবং সোমবারে হাট বসলেও পবিত্র ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা প্রচুর পরিমাণ পশু নিয়ে আসায়
গরু বাজারকে কেন্দ্র করে রাস্তায় তিব্র যানযট দেখা গেছে।
এই হাটে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে দেশি গরু। জেলার অন্যান্য গরুর হাটগুলোতেও এবার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশি গরু আসছে।
হাটে ছাগলের আমদানিও যথেষ্ট। এ হাটে গত কয়েক দিনের তুলনায় ঈদ যত এগিয়ে আসছে বিক্রিও বাড়ছে দিনদিন।
হাটে ৪৫ থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত দাম চাইছেন বিক্রেতারা।
তবে সর্বোচ্চ এক লাখ ৩০ হাজার টাকার গরু ও ৩০ হাজার টাকার ছাগল বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া ৪৫ থেকে ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের গরুর ক্রেতা বেশি।
ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতবারের চেয়ে এইবার গরু প্রতি ৫ থেকে দশ হাজার টাকা দাম বেশি।
গরুর উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেভাবে বাড়েনি গরুর দাম এমনই বলছেন বিক্রেতারা। তারা বলছেন, গরুর খাদ্য কিনতে হচ্ছে বেশি দাম দিয়ে। ৬’শ টাকা ভুট্টা ১২’শ টাকা। ২৫’শ টাকার খৈলের বস্তা এখন ৩৩’শ টাকা দাম। খড়ের দাম বেড়েছে। এমন কোন খাবার নাই যে খাবারের দাম বাড়েনি। লাভ যদি দেখা যায় তা প্রকৃত লাভ নয়। খরচের তুলনায় এর দ্বিগুণ লাভ করলে ভালো হতো।
সরাইল কুট্টাপাড়া দর্জিপাড়া এলাকার মহিষ ব্যবসায়ী ময়দর মিয়া  জানান,পশু খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার মহিষ  পালন করে তেমন একটা লাভ করা যাচ্ছে না।  এবং গতবারের চেয়ে বেশি দামে মহিষ কিনতে হয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় ক্রেতারা দাম কম বলছে।
গরু কিনতে আসা সরাইলের জাহিদুল ইসলাম জাদন মিয়ার কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে গরুর দাম কিছুটা কম। হাটে দেশি গরুর সমাগম হয়েছে। পছন্দের গরু কিনতে পারায় আমরা খুশি।
এদিকে হাটের ইজারাদার জানিয়েছেন, হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হন সে জন্য মাইকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।