শরীয়তপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত সেই নৌকার কর্মী আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু

রুহুল আমিন
শরীয়তপুর সংবাদদাতা॥
শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের কর্মী-সমর্থকদের বোমা হামলা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত নৌকার সমর্থক সেই আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (পিজি) মারা গেছেন। দীর্ঘ ১৯ দিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ নভেম্বর শুক্রবার  তিনি মারা যান। শরীয়তপুরে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনি সহিংসতায় এই প্রথম কোন ব্যক্তির মৃত্যু হল।
তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক ঢাকার জিনজিরাতে ব্যবসা করতেন। তার ছেলে বাবু মোল্যা জিনজিরা ইউনিয়ন প্রযুক্তিলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিহত আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা ১১ নভেম্বর ২০২১ অনুষ্ঠিত আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালাতে একই ইউনিয়নের চরযাদবপুর নিজ গ্রামের বাড়ি এসেছিলেন। তখন নির্বাচনোত্তর ৮ নভেম্বর সকাল ১০ টায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের শ্যালক এলাকার ত্রাস সোহেল খান, দেলোয়ার হাওলাদার, আজিজুল হাওলাদার, নুরুল হক হাওলাদার, জব্বার হাওলাদার, আলিমুল মোল্যা, আলী আকবর মোল্যা, রুহুল আমীন ওঁঝাসহ ৭০/৭৫ জন লোক ককটেল বোমা, রামদা, ছেনদা, টেটা, চাপাতি, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে দাতপুর পাকার মাথায় অবস্থিত নৌকার নির্বাচনি অফিসে হামলা চালায়।
এসময় হামলাকারীদের বোমা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, আক্তার মোড়ল, বাবু মোল্যাসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত আব্দুর রাজ্জাক মোল্যাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে গুরুতর অবস্থা দেখে ঢাকায় প্রেরণ করেন। সন্ত্রাসীরা এখানে নৌকার নির্বাচনি অফিস ও আশের পাশের ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে। অফিসে থাকা বঙ্গবন্ধুর ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করে উল্লাস প্রকাশ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের শ্যালক নানা অপকর্মের হোতা সোহেল খানের বাহিনীর অত্যাচারে দাতপুর পাকার মাথা বাজার ও আংগারিয়া বাজারে এখনও অনেক নৌকার সমর্থকরা দোকানপাট খুলতে ভয় পাচ্ছেন। কয়েকটি মামলার আসামী হোসেল খান এলাকায় মহড়া দিলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।