শরনখোলায় ২০০ পরিবার পাবে সরকারি ঘর

এম এইচ শান্ত
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি :
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্প-২’র আওতায় বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার সরকারী খাস জমিতে দুই কক্ষ বিশিষ্ট রঙ্গিন টিনের ছাউনি যুক্ত সেমিপাকা দুইশত ঘর পেতে যাচ্ছেন।
দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য সরকারী বরাদ্ধকৃত ঘর নির্মান নিয়ে যাতে কোন প্রকার অনিয়মের অভিযোগ না ওঠে সে কারনে কয়েক পর্বে যাচাই বাচাই শেষে তৈরী করা হয়েছে প্রকৃত ভুমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তিদের নামের তালিকা এবং ঘরগুলোর নির্মান কাজের তদারকি করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন।
আগামী ২০ জানুয়ারী শরনখোলা উপজেলার ১০০টি পরিবারকে উপহার দেওয়া হবে তাদের স্বপ্নের নীড়ের চাবি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশব্যপী ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা ৫০ হাজার ঘর চলতি মাসের ২০ জানুয়ারী একযোগে শুভ উদ্ভোধন করবেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিটি ঘরের নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে ১লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
উপকারভোগীদের অভিমত জানতে চাইলে, উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা ৩ সন্তানের জননী বিধবা মিনারা বেগম (৫৫) বলেন, আমার স্বামী সিডর পরবর্তী সময়ে জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে মাছ আহরন করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন।
স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর আমি ছেলে-মেয়ে নিয়ে পলিথিন মোড়ানো কুঁড়ে ঘরে বসবাস করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আমার মত অসহায় নারীকে একটি ঘর দিয়েছেন এ জন্য আমি তার কাছে চিরঋনী হয়ে থাকলাম। একই গ্রামের রীতা রানী (৩২) বলেন, সড়ক দূর্ঘটনায় আমার স্বামী মারা যাবার পরে একমাত্র শিশু পুত্রকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকি এবং ওই গ্রামের শারিরিক প্রতিবন্ধী মোঃ আবুল কালাম হাওলাদার (৫৫) বলেন, অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মত গরীবদের একটু মাথা গোঁজার ঠাই করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এ জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০০ টি ঘর উপজেলার প্রকৃত ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে সরবারহ করা হবে। যাচাই বাচাই সহ তালিকা প্রনয়নের কাজ সমাপ্তের পথে এবং ঘরগুলোর নির্মান কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
প্রধানমন্ত্রী চলতি মাসের ২০ জানুয়ারী দেশব্যাপী ৫০ হাজার ঘরের  উদ্ভোধন করবেন। ওই দিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ১০০ টি পরিবারের নিকট তাদের নুতন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হবে।
এছাড়া ঘর নির্মানের বিষয়ে তিনি আরো জানান, নির্মান সামগ্রী সহ পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ার কারনে এই বরাদ্ধে শরনখোলার মত উপকুলীয় এলাকায় এ ধরনের ঘর নির্মান করা একটু কষ্টকর। এ কারনে অতিরিক্ত বরাদ্ধ চেয়ে বাগেরহাট জেলা প্রসাশক মহোদয়ের মাধ্যমে গত ৩১ডিসেম্বর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন পাঠানো হয়েছে