রেজাউল করিমকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় চরফ্যাশনের এওয়াজপুরবাসী

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর স্বপ্ন পূরণে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এওয়াজপুর ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া এলাকাবাসীর মাঝে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এর উন্নয়নকে আরও প্রসারিত করতে এবং অনগ্রসর জনগনকে জাতীয় উন্নয়নের অংশীদার করতেই চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন বলে জানান রেজাউল করিম চৌধুরী।
নিজের আদর্শ ,মেধা ও দূরদর্শীতা দিয়ে এওয়াজপুর ইউনিয়নের উন্নয়নকে আরও প্রসারীত করতে চান এ প্রার্থী। তিনি ১৯৮৮ সাল থেকে এওয়াজপুর ইউনিয়নে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরেন এলাকাবাসীর কাছে।
রেজাউল করিম ১৯৯২ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চরফ্যাশন মহাবিদ্যালয় ও  উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও ২০০১ সাল পরবর্তী
বিরোধী রাজনৈতিক দলের ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে একাধিক মামলা ও হামলার শিকার  হয়ে দীর্ঘসময় কারাবরণ করেন।
এছাড়াও ১৯৯১,১৯৯৬,২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও ভোলা-৪ চরফ্যাশন ও মনপুরা আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য প্রার্থী’সহ আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি’র পক্ষে (২০০১ ও ২০০৮) নৌকা প্রতীকে নির্বাচনী কেন্দ্রের এজেন্ট ও সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি এওয়াজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ২০০১ সাল পরবর্তীতে চরফ্যাশন উপজেলায় জাতীয় নির্বাচনে বর্তমান স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এর নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করায় তৎকালীন সরকার দলীয় কর্মীদের হামলা ও নির্যাতনেরও শিকার হন তিনি। বিরোধীদল থাকাকালীন দুর্দিনের রাজনীতিতে নিজের সর্বোচ্চ  ত্যাগ দিয়েই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলেও জানান এ প্রার্থী। এছাড়াও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আধুনিক চরফ্যাশনের রূপকার আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি’র পক্ষে শশীভূষণ তথা এওয়াজপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
তার পিতা আলহাজ্জ সামছুল হক চৌধুরী ওই অঞ্চলের একজন সমাজ সেবক নিবেদিত প্রাণ ও সর্বজনিন শ্রদ্ধার পাত্র বলেও জানা যায়।
পিতার আদর্শে আদর্শিত হয়ে ইউনিয়নের জনসাধারণের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী কর্মী হিসেবে আসন্ন এওয়াজপুর ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন এ প্রার্থী।
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ৪-দলীয় জোট সরকারের হামলা মামলার শিকার  হলে চরফ্যাশন ও মনপুরার গণ মানুষের নেতা আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদনে আমাদের নিয়ে যান। নেত্রী আমার সার্বিক খোঁজ খবর নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে নেতার আদর্শে রাজনীতি করো তার জীবনের অধিকাংশ সময় জেলে কেটেছে। অতএব জেল জুলুমকে ভয় পেলে চলবেনা”। আমি সেই দিন থেকেই দল ও দেশের কথা চিন্তা করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের হামলা,মামলা,নির্যাতনসহ সকল ত্যাগ মাথা পেতে ও বুক পেতে নেই।
তিনি আরও বলেন, আমার ত্যাগের কথা চিন্তা করে দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেন এবং এলাকাবাসীর চাওয়া পাওয়ায় যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই, তাহলে এলাকার স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ঘুষ মুক্ত ন্যায় সালিস বিচার প্রতিষ্ঠা, ইউনিয়নকে উপজেলার সর্বোচ্চ মডেল ইউনিয়নে পরিনত করা, স্থানীয় মাদ্রাসা মসজিদের উন্নয়ন, প্রত্যেক পাড়া মহল্লার মসজিদ ভিত্তিক মক্তব চালু করা, এলাকার কৃষি ও চাষাবাদ জমির জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেইনেজ ব্যবস্থা, স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য সঠিক কর্মপরিকল্পনাসহ স্থানীয় ছিন্নমূল শিশু কিশোর কিশোরীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার সুযোগ তৈরী করাসহ হত দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল ধারায় উন্নিত করা এবং বাংলাদেশ সরকারের সকল সেবা দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌছে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন এ প্রার্থী।
স্থানীয় বাসীন্দারা জানান, রেজাউল করিম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে এওয়াজপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নসহ এলাকাবাসীর সুখে দুঃখে পাশে থেকে সহযোগীতা করে আসছেন। এছাড়াও বিভিন্ন মানুষের জমিজমাসহ একাধিক সালিশ ফয়সালার মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে চলে আসা পারিবারিক কলোহ ও বিরোধ নিষ্পত্তি করেন। তিনি ওই ইউনিয়নের জনসাধারণের হৃদয়ে আস্থা অর্জন করে নিয়েছেন বলেও জানান  এওয়াজপুর ইউনিয়নের নারী পুরুষসহ কিশোর,যুবক ও প্রবীণ ব্যক্তিরা।
জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর  রাজনৈতিক আদর্শে আদর্শিত আওয়ামী লীগের ত্যাগী এ নেতা ওই এলাকায় আসন্ন ইউপি নির্বচনী মাঠে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরী করে নিয়েছেন বলেও জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ একাধিক এলাকাবাসী।
ধর্ম বর্ন ও দলমত নির্বিশেষে এওয়াজপুর ইউনিয়নবাসী তাকেই আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলেও প্রত্যাশা করছেন এ প্রার্থী।