রামেক হাসপাতালে নার্সকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক কর্তৃক এক নার্সকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে নার্সরা। আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে রামেক হাসপাতালের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন থেকে ওই চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের নাম মামুন-অর-রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানেসথেসিয়ার ওপর কোর্স করছেন। মামুন ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করে ডা. মামুন চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি করছেন। ছুটি নিয়ে এখন সে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
অ্যানেসথেসিয়া কোর্স করছেন। অব্যাহতির আগে পর্যন্ত তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) প্রশিক্ষণের কাজ করছিলেন। চলতি মাসের ১৮ জানুয়ারী এ ঘটনা ঘটান তিনি। রামেকহার নার্সেস এসোসিয়েশান সূত্রে জানা গেছে, ১৮ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে রামেকহার আইসিইউতে ডা. মামুনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন একজন নার্স (২৫)। ডা. মামুন তখন হাত দিয়ে ওই নার্সের স্পর্শকাতর অঙ্গ চেপে ধরেন। সেদিন বিষয়টি নিয়ে কোন অভিযোগ করেননি ওই নার্স। পরদিন ওই নার্স আইসিইউতে ডা. মামুনকে রোগীর জন্য একটি টিউব দিচ্ছিলেন। তখন ডা. মামুন তার হাত চেপে ধরেন। নার্স দ্রুত নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সরে যান। এ সময় পেছন থেকে গিয়ে ডা. মামুন তার পিঠে এবং বুক স্পর্শ করেন। ক্রমাগত এমন যৌন হয়রানির শিকার হয়ে ওই নার্স তার এক সহকর্মীকে প্রথমে জানান। পরে তিনি নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের রামেক হাসপাতাল শাখার সভাপতি শাহাদাতুন নূর লাকি ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ খলিলুর রহমানের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। সেদিনই তারা আইসিইউতে ডা. মামুনের কাছে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। ডা. মামুন তখন তার আচরণের জন্য তাদের কাছে সরি বলেন। এরপর তারা সবাই হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে যান। সেখানে নার্সরা ডা. মামুনের এমন আচরণের বিষয়টি হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানীকে জানান। তখন ডা. মামুনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার অপরাধ স্বীকার করেন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে ডা. মামুনকে প্রশিক্ষণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন হাসপাতাল পরিচালক। একইসঙ্গে রামেকের উপাধ্যক্ষ ডা. হাবিবুল্লাহ সরকারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি ঘটনা তদন্ত করছেন। এরপরই এই মানববন্ধন করা হলো। অভিযুক্ত চিকিৎসক মামুন-অর-রহমান বলেন, ছোট একটা সমস্যা হয়েছে। সেটা তো অনেক রকমেই হতে পারে। এ ছাড়া তিনি অন্য কোন মন্তব্য করতে চাননি। মানববন্ধনে হাসপাতালে কর্মরত নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।