ভোলায় চলাচলের রাস্তায় কাঁচা টয়লেট ও বেড়া দিয়ে ৩ পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি ॥

ভোলায় বসতবাড়িতে চলাচলের রাস্তায় খোলা টয়লেট ও গাছের চাড়া রোপন করে ৪ পরিবারের ৩০ জন্য সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী সাবেক এক ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ব্যাংকের হাট বাজার সংলগ্ন স্থানে ঘটেছে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকার জন্য ভুক্তভোগী পরিবার ২৩ নভেম্বর সোমবার উপজেলা নির্বাহী বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ব্যাংকের হাট বাজার সংলগ্ন মোঃ মানছুর মেকার, আব্দুর রশিদ ও মোঃ ইব্রাহিম সহ ৪টি পরিবারের প্রায় ৩০ সদস্য গত ৪ বছর থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। প্রতিবেশী সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম  প্রভাব খাটিয়ে বাড়ি যাওয়ার রাস্তায় ৪টি কাঁচা টয়লেট ও গাছের চারা রোপন করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে রেখেছেন। এতে ভুক্তভোগী পরিবার বসতভিটা থেকে বের হতে পারছেন না, ছেলে মেয়েরা স্কুলেও যেতে পারছেনা। অন্যদিকে কাঁচা টয়লেটের ময়লার দুর্গন্ধে পরিবেশ ভারি হয়ে আসছে।

স্থানিয়রা বলছেন, নুরুল ইসলাম এলাকায় ভূমিদস্যু পরিচিত। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ভেদুরিয়ায় বহু মানুষকে নির্যাতন করে ঘরে আগুন দিয়ে ভিটা ছাড়া করেছে। এবার ২০১৫ সালে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ করে মানছুর মেকার গংদের বসতবাড়ি থেকে উৎখাত করার জন্য তাদের বসত বাড়ির রাস্তা অবরুদ্ধ করে আছে।  ভেদুরিয়ার চরে তার কিছু বাহিনী আছে. তাদের ক্ষমতায় সে এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বার পর্যন্ত মানেনা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল ইসলামের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, জায়গাটা আমার তাই বেড়া দিয়েছি, টয়লেট বসিয়েছি, তাতে কার কি আসে যায়। ওরা কি ভাবে চলাফেরা করবে সেটা ওদের বিষয়, আমার দেখার বিষয় নয়। বেশি বাড়াবাড়ি করলে ওদেরকে নারী নির্যাতন মামলা ও আমার ঘরে আমি আগুন লাগিয়ে ওদেরকে দেশ ছাড়া করবো।

ইউপি সদস্য আবুল বশার বলেন, নুরুল ইসলাম লোকটা অসামাজিক। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি তাকে সমাধানের পথে আনার, কিন্তু সে আসে নাই। বরং উল্টো বাদীদের এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে।

ভেদুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম মাষ্টার বলেন, অভিযোগ কারিদের অভিযোগ সত্য। অভিযোগ কারিদের চলাচলের যে রাস্তাটি নুরুল ইসলাম বন্ধ করে টয়লেট ও বেড়া দিয়েছে তা অন্যায় ভাবে করেছে। সে জমি কেনা থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত অভিযোগ কারিদের সাথে মানষিক টর্চার করে আসছে। আমি বিষয়টি সমাধানের জন্য তাকে বারংবার নোটিশ করেছি, কিন্তু সে সমাধানের জন্য পরিষদকে কোন সহযোগীতা করে নাই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. মিজানুর রহমান অভিযোগ পেয়ে বলেন, অভিযোগ যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।