ভেলর ২৭ টন নারায়নের স্বর্ন মূর্তি দর্শনে


সৌমেন মন্ডল, তামিলনারু ভেলর থেকেঃ

লক্ষ্মী নারায়ণী দেবীর স্বর্ণমন্দির প্রাঙ্গণে এসে পাহাড় ও বন-বনানির সান্নিধ্য পেলাম। শ্রী লাকমী নারায়ণী স্বর্ণমন্দির বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব একটা চেনা-জানা নয়। বাংলাদেশের মানুষ স্বর্ণমন্দির বলতে চট্টগাম এর বৌদ্ধ মন্দিরকে বোঝে।সেই সুবাদে স্বর্ন মন্দির দেখার কৌতুহল বেরে গেছে।ভেলর সিএমসি থে প্রায় ৮ কিঃমিঃ দুরে নারায়নী মেডিক্যাল অবস্থিত আর তার পাশে রয়েছে ৯-১০ স্তর বিস্থার স্বর্ণমন্দির।মন্দিরের সামনে যখন আসলাম মন্দির প্রাঙ্গণের পরিবেশ আমাকে মোহিত করলেও ভেতরে একটা শংকা ছিল! আসলে ভেতরে স্বর্ণমন্দির আছে তো!
মন্দিরের সামনে আসতেই নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলেন বললে স্যার পেহেলে টিকিট ফের চেনঙ্জ ইয়োর প্যান্টআমি থ্রীকোয়াটার প্যাট পরে ছিলাম বলে ঠুকতে দিচ্ছে না পরে ১০০ রুপি দিয়ে ধূতি কিনতে হলো, তারপর ১০০ রূপি দিয়ে টিকিট কিনে প্রবেশ করতে পারলাম।
উঁচু পাহাড়ের পাদদেশে এ মন্দির। নির্মাতারা মন্দিরের নিরাপত্তা মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে। এমন নিরাপত্তা প্রধানমন্ত্রীর জন্য দেওয়া হয়ে থাকে আমাদের দেশে। সব ধর্মের জন্য উন্মুক্ত হলেও হিন্দুদের উপস্থিতি যৌক্তিক কারণেই বেশি। এখানে দেবির দর্শন ও দান গ্রহণের ব্যবস্থা আছে।মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে মন্দির সম্পর্কে কোনো আঁচ করতে পারলাম না। নিরাপত্তার নজিরবিহীন কড়াকড়ি। মোবাইল, ক্যামেরা ও ধাতবদ্রব্য ৩-৫ রুপি প্রদান করে জমা রাখাতে হলো। পায়ের জুতায় পলিথিনে মুড়ে ৩ রুপি দিয়ে জমা রাখতে হলো।
প্রবেশের পূর্ব আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত করে ছোট লোহার গেট পেরিয়ে চিড়িয়াখানার খাঁচার মতো লোহাঘেরা রাস্তা দিয়ে অন্যদের হাঁটতে দেখলাম ।কিন্তু ট্যাকচার নিয়ে ছিলাম দেখে ভিআইপি গেট দিয়ে যেতে দিলেন। এদের মানবতা দেখে যেকেউ বিষমৃত হয়ে জাবে। মাঝে মধ্যেই নিরাপত্তা কর্মীরা সর্বাঙ্গ নেড়েচেড়ে পরীক্ষা করছে কোনো ধাতব পদার্থ আছে কি না। প্রায় ১ কিমি. রাস্তা পেরিয়ে এবার প্রধান ফটকে এসে বুঝতে পারলাম এতক্ষণ বহিরাঙ্গনে ছিলাম। এখন মূল মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করছি। মূল প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর থেকে পুরো রাস্তা পাকা মার্বেল পাথর বিছানো।
রাস্তাই মাঝে মাঝে মাইক লাগানো সব সময় কি যেন বলেই চলেছে মানে বোঝার উপাই নেই কিন্তু সুর ও উচ্চারন শুনে বুঝতে পারলাম মন্ত্রউচ্চারন করছে।মন্দিরের মূল বেদিতে যাওয়ার রাস্তা এতটাই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যে দেখতে পারচ্ছি কিন্তু যেতে অনেক দুর।স্টার দিয়ে নিরাপত্তারক্ষী ঘেরা মিডিল পয়েন্টে মূল মন্দির।
মন্দিরের বহিরাংশ শুধু সোনা দিয়ে জড়িয়ে দেয়া হয়নি, অপূর্ব কারুকাজ। তাও আবার নিখুঁত ও নিপুণ। ইউকিপিডিয়াতে প্রাপ্ত তথ্যমতে মূল ভিতের ওপর ৯-১০ স্তরের সোনার এ মন্দির তৈরি করা কথিত আছে এ মন্দিরে ২৭ টন সোনা আছে।
অবশেষে দেখা পেলাম লক্ষী-নারায়নী মূর্তি নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারতাম না। কিভাবে সমম্ভব এতো নিখুত ডিজাইন করে তৈরি করা।তবে ছবি তোলার জন্য পকেটে হাত দিতেই মনে পরে গেলো ছবি তো দুরের কথা এখানে ধাতব ধব্য আনা অসম্ভব।কিন্তু বেশিক্ষন দেখতে পেলাম না। ভক্তদের এতোই সমাগম যে দারানোর সুযোগ নেই।মন্দিরের ভেতর লক্ষ্মী নারায়ণকে স্থাপন করা আছে। আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শক্তি আম্মা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
আসবেন কিকরে কলকাতা থেকে অনেক ট্রেন আছে সরাসরি ভেলর কাটপাট্টি বা চেন্নাই। আবার প্লেনে আসতে পারেন চেন্নাই। চেন্নাইতে যদি আসেন তবে আবার ভেলর আসতে বাস বা কার নিতে হবে। সিএমসি গেট থে অটোতে আসতে পারবেন বা বাসে সরাসরি নারায়নি স্বর্ন মন্দির।