বি.টি.আর.সি -এর বিরুদ্ধে ভি.এস.পি লাইসেন্স ইস্যু তে মহামান্য হাইকোর্ট -এর স্থগিত আদেশ

 

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বি.টি.আর.সি) এর বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্ট ভি.এস.পি লাইসেন্স ধারীদের পক্ষে স্থগিত আদেশ দিয়েছেন। ভার্চুয়াল টেকনোলজি লিমিটেড এবং সেফ টক্ টেলিকম এর মালিক গণ এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মহামান্য আদালতের কাছে তাদের বঞ্চিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রিট আবেদন দাখিল করলে মহামান্য আদালত আবেদন মঞ্জুর করে স্থগিত আদেশ প্রদান করেন। উল্লেখ থাকে গত ২০১৩ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন অবৈধ ভি.ও.আই.পি ব্যবসা বন্ধের লক্ষ্যে ৮৮১টি ভি.এস.পি লাইসেন্স ইসু করে এবং সফল ভাবে বৈধ ভি.ও.আই.পি ব্যবসা পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। অথচ ভি.এস.পি লাইসেন্সধারীদের লাইসেন্স এ উল্লেখিত নীতিমালা অনুযায়ী সুবিধা প্রদান করতে ব্যর্থ হয় বলে বাংলাদেশ ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কে পর পর ১০ বার চিঠি ইস্যু করে। রিট আবেদনকারী গণ সময় সংবাদ কে জানান ভি.এস.পি লাইসেন্স ইসু করার সময় আন্তর্জাতিক কল রেট ছিল ৩ সেন্ট পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক কল এর পরিমান বাড়ানোর লক্ষে বি.টি.আর.সি অর্ধেক বা দেড় সেন্ট করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।  এই প্রেক্ষিতে বি.টি.আর.সি এর সাথে সম্পৃক্ত অপারেটর আই.জি.ডব্লিউ, আই.সি.এক্স , এ.এন.এস ও ভি.এস.পি লাইসেন্স ধারীগণ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স ধারীদের আর্থিক ক্ষতি পূরণের নিমিত্তে বি.টি.আর.সি -এর কাছে দাবি উপস্থাপন করলে বি.টি.আর.সি আই.জি.ডব্লিউ, আই.সি.এক্স ও এ.এন.এস অপারেটর প্রাপ্ত কমিশন বৃদ্ধি করে ও বার্ষিক নবায়ন ফী কমিয়ে দেয় কিন্তু ভি.এস.পি লাইসেন্স ধারীদের কে এ ধরণের কোনো সুবিধা বি.টি.আর.সি দেয় নাই বলে ভি.এস.পি লাইসেন্স ধারীরা ক্ষতগ্রস্ত হয় বলে রিট কারীগণ জানান। যার ফলশ্রুতিতে ভি.এস.পি লাইসেন্স ধারীরা বি.টি.আর.সি এর অন্যান্য অপারেটর দের স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হন। বি.টি.আর.সি বিষয় টি অনুধাবন করতে পেরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বরাবর পর পর ১০ টি চিঠি প্রদান করে এবং চিঠি তে ১ম বছর লাইসেন্স ফী মৌকুফ ও ২য় বছর এর লাইসেন্স ফী অর্ধেক করার কথা উল্লেখ করে, এ ছাড়াও চিঠিতে বি.টি.আর.সি, ভি.এস.পি লাইসেন্স ধারীদের আর্থিক ক্ষতির দায় স্বীকার করে। এমতবস্থায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় চিঠির কোনো উত্তর না দিয়েই এবং সমস্যা সমাধান কল্পে বি.টি.আর.সি কোনো উদ্যোগ না নিয়েই গত ১৯/১১/২০১৭ তারিখে একটি সাধারণ চিঠি ইসু করে, চিঠিতে ২০১৪-১৫, ১৫-১৬, ১৬-১৭, ১৭-১৮ অর্থ বছর এর সম্পূর্ণ বার্ষিক লাইসেন্স নবায়ন ফী পরিশোধ করার আল্টিমেটাম দিয়ে ৩১/১২/২০১৭ তারিখ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেয়। ৩১/১২/২০১৭ তারিখ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভাবে লাইসেন্স নবায়ন ফী জমা না হওয়ায় ১/১/১৮ তারিখে বি.টি.আর.সি ৭ দিন সময় বর্ধিত করে আরেকটি চিঠি ইসু করে। উল্লেখ্য ২টি চিঠি ই সরাসরি কোনো লাইসেন্স ধারীকে দেয়া হয় নাই বলে রিট কারীগণ জানান। উক্ত চিঠি ২টি কে চ্যালেঞ্জ করে ১৪/১/১৮ তারিখে ভার্চুয়াল টেকনোলজি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সেফ টক্ টেলিকম এর মালিক উভয়ে একত্রিত হয়ে হাইকোর্ট এ স্থগিতাদেশ চেয়ে রিট দাখিল করলে মহামান্য আদালত ১৫/১/১৮ তারিখে ভার্চুয়াল টেকনোলজি এবং সেফ টক্ টেলিকম এর পক্ষে উক্ত চিঠির কার্যকারিতার স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। আরো উল্লেখ থাকে যে ভি.এস.পি লাইসেন্স এর সুবিধা বাড়ানোর জন্য এবং লাইসেন্স নবায়ন ফী কমানোর জন্য বি.টি.আর.সি -র চেয়ারম্যান এর সাথে কয়েকবার লাইসেন্স ধারীরা বৈঠক করে দাবি পেশ করে বলে ভি.এস.পি লাইসেন্স মালিকগণ নিশ্চিত করেছেন। রিটকারীগণ সকল ভি.এস.পি লাইসেন্স ধারীদের একত্রিত হয়ে উক্ত বিষয়ে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষে কাজ করার জন্য আহবান জানান। রিটকারীগণ সহ সকল ভি.এস.পি লাইসেন্স ধারীগণ ভি.এস.পি লাইসেন্স এর নীতিমালা অনুযায়ী সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে সময় সংবাদ কে জানান।