বাংলাদেশ একটি খেটে খাওয়া মানুষের দেশ : তথ্যমন্ত্রী 

এম. মতিন, চট্টগ্রাম :
বাংলাদেশ একটি খেটে খাওয়া মানুষের দেশ। এখানে কোটি কোটি মানুষ খেটে খায়। করোনাভাইরাসের কারণে আজকে দুই মাসের বেশি সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ রয়েছে। অনেকে অনেক শঙ্কা-আশঙ্কার কথা বলেছিলেন, সেই শঙ্কা-আশঙ্কাগুলোকে মিথ্যে প্রমাণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এমন বৃহত্তম ও সুপরিকল্পিত ত্রাণ কার্যক্রমের কারণে দেশের একজন মাসুষও আল্লাহর রহমতে অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি।’ বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ হলে করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া খেলোয়াড়দের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ৭ কোটি মানুষ নানাভাবে সরকারি সাহায্য-সহায়তার আওতায় এসেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। দেশের সমস্ত কওমি মাদ্রাসায় ঈদের আগে দু’দফায় টাকা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদে টাকা দেয়া হয়েছে। এইভাবে ত্রাণ তৎপরতা আশেপাশের কোনো দেশে হয়েছে কিনা আমার জানা নাই।
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এক টাকা খরচ ছাড়া ও কোন দেনদরবার ছাড়া মানুষের মাবোইল ফোনে আড়াই হাজার টাকা চলে আসবে তা কেউ ভাবেনি।’
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মাসের পর মাস বন্ধ রেখে কোনো দেশ টিকে থাকতে পারেনাি উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মাসের পর মাস বন্ধ রেখে কোনো দেশ টিকে থাকতে পারেনা। সে কারণে উন্নত দেশ গুলোতেও আস্তে আস্তে নানা কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে, মানুষ কাজে ফিরে গেছে। আমাদেরকেও ধীরে ধীরে সেই কাজটি করতে হবে। তবে মাথায় রাখতে হবে সেই কাজটি করতে গিয়ে আমরা যেন আবার জনসমাগম না করি এবং শারিরীক দুরত্বটা বজায় রাখি। কর্মকান্ড শুরু হলেও আমাদেরকে অবশ্যই সচেতন থেকে শারিরীক দুরত্ব বজায় রেখে কাজকর্মগুলো করতে হবে। নাহয় আমরা নিজেদেরকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে পারবোনা। মনে রাখতে হবে আমার সুরক্ষা আমার হাতে।’
নিজ নির্বাচনী এলাকার ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ছুটি শুরু হবার প্রথম সপ্তাহ থেকে আমার নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও বোয়ালখালি আংশিক এলাকায় আমার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এনএনকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আমরা বেছে বেছে সিএনজি, রিক্সা, জীপ ড্রাইভার, নৌকার মাঝিসহ সকল খেটে খাওয়া পেশাজীবিদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। ঈদের আগে প্রত্যেকটি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের কাছে ঈদ উপহার সামগ্রী পৌঁছানো হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিরাজমান থাকলে সেটি অব্যাহত থাকবে।’
সীমিত আকারে খেলাধুলা চালু করার কথা উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ আরো বলেন, ‘কিছুদিন পরে খেলাধুলোও আমাদের সীমিত আকারে চালু করতে হবে। করোনা ভাইরাসের মধ্যে খেলাধুলা বন্ধ থাকায় খেলাধুলার ওপর নির্ভর করে যাদের জীবিকা চলে তারাও অনেকটা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার জন্য শরীরচর্চাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা ব্যাপার। সেটি এলাকার মানুষদের উদ্বুদ্ধ করবেন খেলোয়াড়রা।’
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বণিক, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আজগর, নজরুল ইসলাম তালুকদার, ইকবাল হোসেন চৌধুরী মিল্টন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আরজু সিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।