বরগুনা তালতলীর দু’ই যুগ পরে জেলা প্রশাসনের উদ্দোগে শিকারী পাড়ার খাল ফিরে পেল কৃষকরা

অলিউল্লাহ ইমরান, বরগুনাঃ
বরগুনার তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের দীর্ঘ আড়াই কিলোমিটার প্রবাহমান খালের দীর্ঘ ২৪ বছর অবৈধ দখলের পরে আজ জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে খালটি অবৈধ দখল করে চিংড়ী চাষের স্হাপনা ভেঙ্গে সাধারন কৃষকদের সেচের ব্যাবস্হা করে দেয়া হয়েছে।
দীর্ঘ দিন জ্বালিয়াতির মাধ্যমে কাগজ তৈরী করে স্হানীয় জামাত নেতা আনোয়ার হোসেন দীর্ঘ খালটি অবৈধ ভাবে দখল করে, ছোট ছোট স্লুইসগেট করে লবন পানি তুলে চিংড়ী মাছ চাষ করে আসছিলো।
স্হানীয় কৃষক আলাউদ্দিন জানান,১৯৯৬ সালে আনোয়ার মাওলানা লোকজন নিয়ে হঠাৎ করে প্রবাহমান খালটি দখল করে মাছ চাষ শুরু করে। আমাদের ৪ থেকে ৫ হাজার একর জমিতে সেচ দিতে না পারায় আমরা কৃষকরা অসহায় হয়ে প্রশাসনের নিকট গিয়েও কাজ হয়নি। মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ দিয়ে আমাদেরকে হয়রানী করা হয়।
কৃষক ইউনুস হাওলাদার আবেগআপ্লুত হয়ে বলেন, বর্তমান ডিসি আর ইউএনও সাহেবের জন্য আমরা আবার জমিতে মিঠা পানি তুলে সেচ করতে পারবো। আল্লাহ যেন তাদের হায়াত বাড়িয়ে দেন।
বেলা ২ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত খালটির অবৈধ দখল উচ্ছেদ চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোঃ আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, এলাকার কৃষকরা দীর্ঘ কয়েক বছর সেচ দিতে না পারায় জমি অনাবাদী রাখতে বাধ্য হতো। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা অবৈধ দখলমুক্ত করে প্রবাহমান খালের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সেচের ব্যাবস্হা করে দিয়েছি।
বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমাদের সাথে কৃষকরা দেখা করে শিকারীপাড়া খালটি অবৈধ দখল করে সেচ ব্যাবস্হা বাধা দেবার অভিযোগ করেন। সরেজমিনে দ্রুত পরিদর্শন করে আমরা সত্যতা পেয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে কৃষকদের সেচের ব্যাবস্হা করেছি।
জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেষনায় আমরা পর্যায়ক্রমে যে সকল প্রবাহমান জলাশয় অবৈধ দখলে রয়েছে ঐ সকল জলাশয় দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ ও কৃষিতে সেচ নিশ্চিত করা হবে।
আজ অবৈধ দখল অভিযান উচ্ছেদকালীন সময় উপ-জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজবি- উল কবির সহ উপজেলা পরিষদের সদস্যরা উপস্হিত ছিলেন।