বরগুনায় মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে একাধিক পরকীয়া ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

অলিউল্লাহ ইমরানঃ
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের রাফিউল সুমন এক মহিলার সাথে প্রেমের ফাদেঁ ফেলে বিয়ের প্রলবন দেখিয়ে পরোকিয়া ও টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ০৫নং পূর্ব কালমেঘা ইউনিয়নের বাসিন্দা রাফিউল সুমন (পিতাঃ মোঃ হালিম নাজির) বিগত ৩১মে ২০২০ তারিখে বরগুনা পুরাকাটা ফেরীঘাটে বসে মোসাঃ নাসিমা আক্তার নামের এক মহিলার সাথে পরোকিয়া করে টাকা আত্মসাৎ করার সময়ে স্থানীয়রা আটক করে। পরে পরোকিয়া ঝামেলা থেকে বাচাঁর জন্য পাথরঘাটা মানবাধিকার কমিটির সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান গাজীকে ফোন দেয়। খলিলুর রহমান সেখানে গিয়ে কোন সাহায্য- সহযোগীতা করেনি। পরে পরোকিয়ায় জরিত সুমন ও নাসিমা আক্তারকে বিয়ে দিয়ে দেয় এলাকাবাসি।

পাথরঘাটা মানবাধিকার কমিটির সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান গাজী বলেন, রাফিউল সুমন পরোকিয়া করার সময় এলাকাবাসি তাকে আটকে রেখে। পরে সুমন ঝামেলায় পরে আমাকে ফোন দেয় । তবে আমি দায়ীত্ব ও মানবতা হিসেবে পুরাকাটা- ফেরিঘাট ছুটে যাই। পরে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে রাফিউল সুমনের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানার পরে  চরিত্র খারাপ বলে কোন সাহায্য- সহযোগীতা না করায়। পরে আমি মোঃ খলিলুর রহমান গাজীর (পিতাঃ মোঃ খবির উদ্দিন গাজী) পাথরঘাটা মানবাধিকার সভাপতির পদ থেকে বহিস্কার করার জন্য আমার বিরুদ্দে পাথরঘাটা উপজেলা শাখার মানবাধিকার কমিটির শত্রু পক্ষরা একজোগ হয়ে বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায় ও পত্রিকায় মিথ্যা অপবাদ চালাচ্ছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়,  এই রাফিউল সুমন কুয়াকাটা মহিপুর সিরাজপুর গ্রামের ভূয়া মানবাধিকার কর্মী সেজে কিছু সংখ্যক লোকের কাছ থেকে মামলার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।

রাফিউল সুমনের স্ত্রী নাসিমা আক্তার বলেন, আমি আগে দেশের বাহিরে থাকতাম। দেশে আশার পর গত এক বছর আগে আমার সাথে সুমনের প্রেম- ভালোবাসা হয়। পরে আমি সুমনের সাথে বিভিন্ন যায়গায় ঘুরতে যেতাম, রাত কাটাতাম, ও আমাদের বাড়ি আসতো আমি ওর বাড়িতে যেতাম স্বামী- স্ত্রী পরিচয় দিয়ে, তবে তখনো আমাদের বিয়ে হয়নি। রাফিউল সুমন আমার কাছ থেকে দুই লক্ষ পঞ্চাঁশ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি হবু স্বামী হিসেবে তাকে টাকা ‍দিয়েছি। তবে আমায় বিয়ে করার কথা বলে আজ না হয় কাল বিয়ে করবে বলে যাচ্ছেন। পরে একদিন আমরা পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকায় ঘুরতে গেলে ওখানে বসে আমার সাথে রাফিউল সুমন আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে তখন এলাকাবাসি পাচঁ লক্ষ আশি হাজার টাকা দেন মহর ধার্জে বিয়ে পরিয়ে দেয়। তার পরে সুমনের সাথে ওর বাসায় আসি, এবং থাকি । কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকে আমাকে রেখে কোথায় চলে গেছে আমি জানিনা। আমার কোন খোজ খবরও নিচ্ছে না! তবে বিয়ের পরে এসে জানতে পারি আমার স্বামীর আগেও আরো চারটি বিয়ে করছিলো। এবং তাদের সাথে ডিবর্স হয়েছে। আমি এখন ফোন দিলেও ফোনে পাচ্ছি না। অনেক সময় পোনে কল ঢুকলেও কল রিছব করছে না সুমন।

রাফিউল সুমনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।