‘ফারুকি-ইরফানের নাম শুনেই রাজি হয়ে যাই’

নানা রকম বিতর্ক পার করে অবশেষে ২৭ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে মোস্তাফা সরোয়ার ফারুকীর ‘ডুব’। ছবি-মুক্তির আগে নায়িকা পার্নো মিত্রের সঙ্গে গল্প জমাল ‘ওবেলা’।

আপনার বার্ষিক সাক্ষাৎকারের সময় হয়ে এল তাহলে?
(জোর হাসি…) ঠিকই! আমার তো বরাবরই বছরে একটা ছবি মুক্তি পায়। তখনই সাক্ষাৎকারগুলো দিই। কিন্তু এটাই ভাল না বলুন? তিন মাস অন্তর সাক্ষাৎকার নিতে হলে কী জিগ্যেস করতেন বলুন তো!

এই যে বছরে একটা করে ছবি করেন, তাতে অভিনেতা হিসেবে নিজের কোনও উত্তরণ টের পান?
আমার কতটা উত্তরণ হচ্ছে জানি না, তবে ইন্ডাস্ট্রির মোটেই হচ্ছে না (হাসি…)। অভিনেত্রীদের আরও অনেক কাজ দরকার। মেয়েদের কথা ভেবে খুব কম চিত্রনাট্য লেখা হয়। ‘দূর্গা সহায়’এর মতো আরও ছবি হওয়া উচিত। এখানে এত ভাল ভাল অভিনেত্রী রয়েছেন, তাঁদের জন্যে কোনও কাজই থাকে না। আমি বা পাওলি বা স্বস্তিকা তো সব রকম ছবি করতে পারব না! কোনওদিনই করিনি। আমাদের জন্য চরিত্রটা খুব জরুরি। সে রকম ছবির প্রস্তাব না পেলে কী করব বলুন! তাই বাড়িতেই বসে থাকতে হয়।

ডিমোটিভেটেড লাগে না?
অনেক রকম ডায়েট করে নিজেকে ব্যস্ত রাখি (হাসি…)।

ইদানীং কি আরও বেছে ছবি করছেন?
বিশ্বাস করুন, প্রচুর স্ক্রিপ্ট পড়ছি। কিন্তু সেগুলো মোটেই ভাল লাগছে না। এমন নয়, যে আমি আর নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করব না। আমি আগেও নতুনদের সঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু চরিত্রটা ভাল না হলে করা সম্ভব নয়।

‘ডুব’ ছবির প্রস্তাব প্রথম কবে পেয়েছিলেন?
গত বছর জানুয়ারিতে। হিমাংশু ধানুকাই আমায় ফোন করে বলেছিলেন ছবির কথা। প্রথমে খুব একটা ভাল করে বুঝিনি ব্যাপারটা কী। আমি বলেছিলাম ইন্টারেস্টিং স্ক্রিপ্ট হলে নিশ্চয়ই করব। কিন্তু পরে যখন শুনলাম ফারুকী পরিচালক, তখন উৎসাহিত হয়েছিলাম। আমি তার আগে ফারুকীর কোনও ছবি না দেখলেও আমার বন্ধুবান্ধবদের মুখে ওঁর নাম অনেকবার শুনেছিলাম। জানতাম ওঁর কাজের সুনাম রয়েছে। পরে হিমাংশু যখন বললেন, ইরফান খান রয়েছে ছবিটায়, আমি বলে দিয়েছিলাম স্ক্রিপ্ট পড়ার দরকার নেই, ছবিটা করব।

যাঁর নাম শুনে স্ক্রিপ্টও পড়লেন না, তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
আমি শুধু হাঁ করে ওকে দেখতাম। পরদায় জাদু তৈরি করতে পারে ও! মাঝে মাঝে মনে হতো, ও যেন সত্যিই জাভেদ (ইরফানে চরিত্র)। অভিনেতা হিসেবে আমার কাজই মানুষকে অবজার্ভ করা। সেটাই করেছি। হয়তো কিছু শিখলাম ওকে দেখে। যেটা এই মুহূর্তে নিজেও বুঝতে পারছি না।

ছবিতে আপনি তো ইরফানের দ্বিতীয় স্ত্রী?
আসলে আমি ওর মেয়ে সাবেরীর প্রিয় বন্ধুও। ছোট থেকে যে সাবেরীর জীবনটা পেতে চেয়েছে। কিন্তু সেটা না পেরে জাভেদের প্রেমে পড়ে বিয়ে করে। চরিত্রটা খুবই ইম্‌ম্যাচিওর এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

বাস্তব জীবন থেকে এতটা আলাদা একটা চরিত্রে অভিনয় করার আগে কীভাবে প্রস্তুতি নেন?
সকলেই কোনও না কোনও কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। আমরা সকলেই অন্য কাউকে কোনও না কোনও কারণে হিংসে করি। আমিও তো জীবনে কত বোকামি করেছি! সেই ইমোশনগুলো টেনে এনে অভিনয়ের সময় ব্যবহার করতে হয়। তাছাড়া পরিচালক তো রয়েছেনই বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য।

ট্রেলারে দেখা যাচ্ছে আপনি বাঙাল ভাষায় কথা বলেছেন। কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?
চেষ্টা করেছি। কতটা হয়েছে জানি না। ফারুকী আমায় এখানে একটা স্ক্রিপ্ট দিয়ে গিয়েছিলেন। ছবি শুরু হওয়ার আগে স্কাইপে আমাদের অনেক মিটিং এবং ওয়ার্কশপ হয়েছিল। উনি বলে দিয়েছিলেন আমায় কীভাবে কোন জায়গাটা বলতে হবে। সো আই হ্যাভ ট্রায়েড ভেরি হার্ড। বিষয়টা আমাদের জন্য বেশ কঠিন। কিন্তু ইরফান তো দিব্যি বলল। ও ‘নেমসেক’এ যে ইংরেজিটা বা কথা বলার টানটা ব্যবহার করেছিল ওটাই এখানেও করেছে। ওরটা বেরিয়ে যাবে। ইরফান যা-ই বলবে লোকের ভাল লাগবে। ওকে কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু আমি ভুল করলেই লোকে ধরবে। তাই খুব চেষ্টা করেছিলাম।

যৌথ প্রযোজনায় এই প্রথমবার কাজ করলেন। কাজটা নেওয়ার আগে কোনও রকম দ্বিধা ছিল?
একটা ছবির প্রস্তাব এলে চরিত্রটা নিয়ে আমরা যতটা ভাবি, অন্য কিছু নিয়ে ততটা ভাবি না। তাই যৌথ প্রযোজনায় কাজ করার সুবিধে-অসুবিধে নিয়ে আলাদা করে মাথা ঘামাইনি। তাছাড়া ফারুকী যেদিন প্রথম আমার সঙ্গে আলাপ করতে এসেছিলেন, আমরা সেদিন টানা আট ঘণ্টা গল্প করেছিলাম! ছবিতে আমার চরিত্রটা কী রকম, বাকিরা কী রকম এসব নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। দেখলাম আমাদের ওয়েভলেংথ ম্যাচ করছে। সেই থেকে আমি বেশ এক্সাইটেড ছিলাম।

বাংলাদেশে শ্যুট করার অভিজ্ঞতা কেমন?
ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ এখনও অনেকটাই নতুন। বেশ কিছু জিনিস হয়তো একটু অগোছাল, তবে ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। আমার ছবির শ্যুটিং চলেছিল টানা ৪০ দিন ধরে। এখান থেকেও একটা ক্রিউ গিয়েছিল। এই প্রথম আমার খুব হোমসিক লেগেছিল। তবে তিসা (নুসরাত ইমরোজ তিসা, সাবেরীর চরিত্রে) খুব সুইট। আমায় ওদের বাড়িতে মাঝে মাঝেই ডেকে খাওয়াত।

ছবির শ্যুটিং শেষ হওয়ার অনেক দিন পরেও নানা রকম বিতর্কের জন্য মুক্তি পিছিয়ে গিয়েছিল। একজন অভিনেতার জন্য এই অনিশ্চিত সময়টা কতটা ভয়ংকর?
শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, সেই সময় আমার গোটা ছবির টিমের জন্যেই খারাপ লেগেছিল। কতজন কতটা খেটেছে এর পিছনে! খুব কষ্ট হয়, আবার রাগও হয়। একটা বোকা কারণে ছবি আটকে গেলে রাগ তো হবেই। অসহায় লাগে খুব। কিন্তু কী বলুন তো, এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন আমায় অনেকবার হতে হয়েছে। ‘এক্স’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’— যে ছবিতেই কাজ করি, সবই তো খুব দেরি করে মুক্তি পায় (হাসি…)। এবার ভাবছি একটা কমার্শিয়াল ফিল্ম করে ফেলি। অন্তত সময়ের মধ্যে মুক্তি তো পাবে (জোর হাসি…)!

কৃতজ্ঞতা-ওবেলা।