ফরিদপুরের আলোচিত সম্রাট বাবর – ১

নাজিম বকাউল, ফরিদপুর :

ফরিদপুরের আলোচিত একটি নাম সম্রাট বাবর । তিনি ছিলেন বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী । ২০০৮ সালের পর ছলম পরিবর্তন করে হয়ে গেলেন আওয়ামীলীগের হাইব্রীড অন্যতম নেতা । ২০১৩ সালে উপজেলা নির্বাচনে কৌশল অবলম্বন করে ফরিদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন , আওয়ামীলীগ দল ক্ষমতায় এবং তার নিকটজন সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি ফরিদপুরের কাউকেই মানুষ মনে করলেন না শুরু করলেন প্রকৃত আওয়ামীলীগ নিধন অভিযান । প্রথমেই শুরু করলেন যারা ফরিদপুরের প্রকৃত আওয়ামীলীগ কর্মী তাদের উপর হামলা – মামলা , নির্যাতন । এর মধ্যেই ফরিদপুর জেলা আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি করার কার্যক্রম শুরু করা হয় ঐ নতুন কমিটিতে নিজে ফরিদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হয়ার ঘোষণা দিলেন এবং ফরিদপুর শহরের আনাচে- কানাচে পোস্টার- ব্যানার দিয়ে ছড়িয়ে দিলেন কিন্তু সম্রাট বাবরের ভয়ে প্রকৃত আওয়ামীলীগের কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি তখন সবাই ছিল বাবর আতংকে । কিছুদিন পরেই জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো ফরিদপুরে ঐ সম্মেলনে ঢাকা থেকে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত হলেন তাদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম , তিনিও রক্ষা পাননি সম্রাট বাবরের বাহিনীর হাত থেকে । সৈয়দ আশরাফ সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের লাঞ্ছিত করলেন । সম্রাট বাবরের কর্মকান্ড দেখে হতবাক হয়ে গেলেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা কর্মীরা । পরবর্তীতে ঐ কর্মকান্ডের কারণে সৈয়দ আশরাফ হোসেন শুধুমাত্র ফরিদপুর জেলা কমিটির দুইজনের নাম ঘোষনা করে ঢাকায় চলে যান । ঐ দুইজন হলেন আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাড সুবল চন্দ্র সাহা ও সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাসুদ হোসেনের নাম ঘোষনা করেন । সম্রাট বাবর আরো ক্ষুব্ধ হলেন কমিটির ঘোষনায় তার নাম না আসায় শুরু করলেন আওয়ামীলীগ কর্মীদের নিধন অভিযান । প্রথম অভিযান শুরু করেন দলের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেনের উপর তার ব্যবসা –বানিজ্য, প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলেন । দলের সাধারন সম্পাদক থাকা সত্ত্বেও সৈয়দ মাসুদ হোসেন গৃহ বন্দী হয়ে পড়লেন , দলের কোন কার্যক্রমে তাকে ডাকা হতো না শুধু তাই না ঘর বন্দী হয়ে পড়লেন ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা । তাদের মধ্যে রয়েছেন শামসুল হক ভোলা মাস্টার , বিপুল ঘোষ, আইভি মাসুদ, ফারুক হোসেন , খলিফা কামাল উদ্দিন সহ দুই শতাধিক ত্যাগী নেতা কর্মীরা । ঐ সকল নেতাদের হটিয়ে সম্রাট বাবর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেন শুরু করলেন টেন্ডারবাজী , নিয়োগ বানিজ্য সহ যত অপকর্ম আছে সবই করেছেন তিনি । দুর্নীতি ও অপকর্মের দায়ে পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ না হতেই ফরিদপুর থেকে বিতারিত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হোন । সম্রাট বাবর দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার মধ্যে কৈজুরীতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে আলিশান বাড়ি , পদ্মার চরে দুই ছেলে ও নিজের নামে শত বিঘা জমি কিন্তু এই বিষয় গুলি এখন পর্যন্ত দুদকের নজরে পরেনি । ফরিদপুরবাসী সম্রাট বাবরের অপকর্ম ও দুর্নীতি বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার দাবি জানান ।

চলবে…….