ফরিদগঞ্জে এইচ এম হারুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির অভিযোগ!

চাঁদপুর প্রতিনিধি :

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এইচ এম হারুন-অর রশিদের বিরুদ্ধে ৭ ইউপি সদস্যের মাসিক সম্মানির অর্থ আত্মসাৎ সহ ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে অনিয়ম দুর্নীতির তদন্তের দাবীতে পরিষদের নির্বাচিত ৭ সদস্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রবিবার ২৬ জুলাই জেলা প্রশাসকের কাছে ইউপি সদস্য ( ৭জনের নাম) স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে এ অভিযোগ দেন তারা। অভিযোগকৃতরা হলেন আবদুল হাই মজুমদার, শহিদ উল্যাহ, মো. জসিম উদ্দিন, আ.মান্নান, বাহাউদ্দিন বাবলু, সাবিনা ইয়াছমিন ও ফরিদা ইয়াছমিন।

অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় সচিব, ফরিদগঞ্জ উপজেলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হয়।

ইউপি সদস্যদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর- রশিদ পরিষদ গঠনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইউপি সদস্যদের সম্মানি ভাতার টাকা প্রদান না করে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়া, পরিষদের আওতায় জমি রেজিষ্টেশনের ১% টাকা সদস্যদের না জানিয়ে নামে বেনামে ভাউচার তৈরী করে খরচের নামে নিজে আত্মসাৎ করার অভিযোগ চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন , এডিবি/টিআর/কাবিখা, বাজার ইজারা/ডাকের টাকা সহ বিভিন্ন খাতের টাকা জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে না দিয়ে ব্যক্তিগত কিছু প্রকল্পের নামে একক ভাবে আত্মসাৎ করেন ইউপি চেয়ারম্যান হারুন। এমনকি দুর্যোগকালীন সময়ে এলাকার বরাদ্দকৃত বিজিএফ কার্ডের ত্রান সামগ্রী পরিষদের সদস্যদের বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত লোক দিয়ে বিলি করেছেন। এছাড়া চেয়ারম্যান হারুন অর-রশিদ ১০ কেজি চালের পরিবর্তে ৮ কেজি করে চাল বিতরণ করেছেন বলে অভিযোগ মেম্বারদের।

এছাড়া, পরিষদের আওতাধীন বনায়নের ৫% টাকা ইস্যুকৃত চেকের টাকা উত্তোলন করে উন্নয়নে ব্যয় না করে একক ভাবে আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আবদুল হাই মজুমদার, বাহাউদ্দিন বাবলু বলেন, পরিষদ গঠনের শুরু থেকে একক স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়ম বর্হিভূত ভাবে পরিষদের সদস্যদের না জানিয়ে নিজ নিয়মে পরিষদ পরিচালনা করে আসছে চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ। পরিষদের সদস্যদের ভাতার টাকাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে আঙ্গুল পুলে কলা গাছ বনে গেছে। আমরা মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে লিখিত ভাবে অভিযোগ করেছি, তিনি তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে আমরা আসাবাদী।

ইউপি সদস্যদের আনিত অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর- রশিদ মুঠফোনে এ প্রতিনিধিকে জানান, মেম্বাররা আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ এনেছে তা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলী হরি জানান, অভিযোগ পেয়েছি চেয়ারম্যানকে বলেছি মেম্বাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য।