দৌলতখানে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হামলা

 

মেহেদী হাসান শরীফ, দৌলতখান( ভোলা) :

ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায় সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা করছে প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হক। দফায় দফায় হামলা হচ্ছে পরিবারটির উপর। হুমকি দেওয়া হচ্ছে দেশ ছারার। না হয় মেরে ফেলা হবে। দৌলতখান পৌরসভা ৫ নং ওয়ার্ডে কেন্দ্রিয় মন্দির সংলগ্ন এই ঘটনাটি ঘটেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা দৌলতখান আবু আবদুল্লা কলেজের পিয়ন মরন বাবুর ছেলে শুভাস( ৪০) এর সাথে বিয়ে হয় হিমাংশু( ৭০) পিতা শুনিল চন্দ্র দে এর প্রতিবন্ধি মেয়ের সাথে। হিমাংশু মেয়ে প্রতিবন্ধি হওয়ার কারনে জামাইকে তাদের সাথেই রেখে দেয়। বসত ঘড়ের সামনে চা, পানের ছোট্ট একটি টেক্সার করে চলছে পরিবারটি। সরকারে গৃহহীনদের বিনামুল্য ঘড় এর আওতায় মাননীয় এমপি মহোদয়ের নির্দেশে শিল্পি রানি নামের প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে একটি ঘড় দেওয়া হয়। জায়গা নেই যে যায়গাটিতে বর্তমানে হিমাংশু বাবা ও তার পরিবার বসবাস করছে ঐ যায়গাটি সমবার ব্যাংকের। পড়ে আইনি প্রকৃয়ায় সমবায় ব্যাংক থেকে জায়গাটি ভারা নেওয়া হয়। হিমাংশু “র ঘড়ের সাথেই উপজেলা বিএনপি সহ- সভাপতি মোজাম্মেল মিয়ার ভারা ঘর। বিএনপি জোট সরকারের আমলে জোর করে হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদ করে এই জায়গা, দোকান দখলে নেয় মুজ্জামেল হক এমনকি অভিযোগ আছে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধীক পরিবারকে উচ্ছেদ করে মোজাম্মেল হক এই জায়গা দখলে নেয়।
পরবর্তীতে ঐ পরিবার গুলো দৌলতখান ছেড়ে চলে যায় । সাবেক বিএনপি জোট সরকারের ৫ বছরে হিন্দু পরিবার গুলোর উপর নিয়মিত চলতো এই মোজাম্মেল গংদের অত্যাচার। বহু পরিবার ভিটে হারিয়ে অত্যাচারে টিকতে না পারে চলে গেছে অন্যএ। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হওয়ার সুবাদে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায়নি। এখনও অব্যাহত আছে তার দখল প্রক্রিয়া। পৌরসভা ৭ নং ওয়ার্ডে যে যায়গায় বাড়ি করে থাকছেন তাও দখল করা। প্রায় ৭০ শতাংশ জমি বিএনপি সময় ঐ যায়গায় দখল করে সে। তারই ধারাবাকতায় পৌর ৫ নং ওয়ার্ডের মন্দিরের পাশ্বের এই জমিটি ও দখল করেন একই কায়দায়। জোট সরকারের আমল থেকেই দখলকৃত ৫ নং ওয়ার্ডের এই জমিটিতে ৫ টি বসত ঘড় তুলে তা ভাড়া দিচ্ছেন।
মুলত চারিদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস মাঝ খানে তার দখল করা জায়গা। যা দেখলে বুঝতে অশুবিধা হবেনা কি করে যায়গার মালিক হয়েছে মুজাম্মেল হক। গত ২৬ এপ্রিল জোড় করে প্রতিবন্ধী পরিবারটির গাছ কাটতে জায় মুজাম্মেল হক ও তার লোকজন। জাতে বাধা দেয় হিমাংশু ও তার জামাতা সুবাস। তার ঘন্টা খানেক পড়ই শুরু হয় মোজাম্মেল হক ও তার ক্যাডার বাহিনীর তান্ডব তার ছেলে শুভ(২৮) জামাল মেম্বারের ছেলে শান্ত এর নেতৃত্বে ৮/৯ জন হিমাংশুকে গলির ভিতর ডেকে নিয়ে অকত্য ভাষায় গালিগালাজ ও তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় চিৎকার চেচামেচি শুনে সুবাস ঘটনাস্থলে আসলে শুভ,শান্ত ও তাদের ক্যাডার বাহিনী মিলে সন্ত্রাসী কায়দায় তাদের উপর নির্যাতন করতে থাকে। স্থানিয় লোকজন ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় এবং তাদের বসত ঘরে গিয়ে সুবাসের স্বাশুরি কানন বালাকে মার ধরের চেষ্টা করে।পড়ে লোকজন জরো হলে সেখান থেকেও চলে জায় হামলা কারিরা। তবে যাওয়ার আগে জানিয়ে যায় প্রানে বাচতে হলে তাদেরকে দৌলতখান ছাড়তে হবে। মুজাম্মেল রা সব সময় ই প্রভাবশালী কারন সব দলেই তাদের আত্বিয়রা রয়েছে। আর আত্বিয়রাও জনপ্রতিনীধি তাই ওদের বিচার হয়না আর ভুক্তভোগিরা বিচার পায়না। দুই দিন ধরে বিচারের দাবিতে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত সংখ্যা লগু পরিবারটি। এই মোহামারির সময় একপ্রকার জীবন বাচাতে ঘরের কোনে মুখ লুকিয়ে বেচে আছে তারা। আর সমাজের মুখে কুলুপ এটেছে। এদের জন্ম ই হয়েছে অত্যাচার সহ্য করতে? এরা কি মানুষ না? এরা সংখ্যা লঘু অসহায় তাই কি এরা বিচার পাবেনা? এরা নিন্ম শ্রেনীর এটাই কি এদের দোষ? অসচ্ছল এরা টাকা নেই তাই তো? টাকা থাকলে বা প্রভাব থাকলে কি বিচার পেতো? ওদের চোখে মুখে অজানা আতংক থানায় অভিযোগ করার সাহস ওরা হারিয়ে ফেলেছে দুই দিন ধরে বিচার এর জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে নির্যাতিত পরিবারটি। তবে মুজাম্মেল দের বিচার হয়ত হবে আবার হয়তো হবেনা। প্রতিবন্ধী মেয়েটি থুথু দিবে সমাজের মুখে। কারন সবাই যে মুখ বন্ধ করে আছে।

মেহেদী হাসান শরীফ
দৌলতখান( ভোলা)
মোবাইলঃ০১৭১৯৮৩৪৫০১