দৌলতখানে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা তালিকায় একই পরিবারের সবাই! 

দৌলতখান (ভোলা) প্রতিনিধি :

কোভিড -১৯ করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাবের ফলে মানুষের কষ্ট লাগবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে উপহার হিসেবে ২৫০০ টাকা করে মানুষের মোবাইলে প্রদান করা হচ্ছে। সারা দেশে প্রতিটি উপজেলায়, ইউপি, ওয়ার্ড পর্যায়ে তালিকা করে দেওয়া হচ্ছে সহায়তা। জনপ্রতিনিধি ও সকলের সমন্নয়ে সচ্ছ ভাবে তৈরি করা হয়েছিলো তালিকা। ত্রাণ কমিটি সচ্ছ তালিকা তৈরিতে ইউপি সদস্যদের কে সাথে নিয়ে প্রকৃত ব্যক্তিদের খুজে বের করে তা সংস্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরন করে। কিন্তু দৌলতখান উপজেলার সৌয়দপুর ইউনিয়নে ৯ নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য কারসাজি করে উল্টে দেন প্রকৃত তালিকা। সকলের সমন্নয়ে ঐ ওয়ার্ড থেকে ৮০ জনের তালিকা প্রস্তুত করে তা সংস্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরন করতে দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউপি সদস্য মোঃ আলমগিরকে। কিন্তু তালিকা প্রেরন করতে গিয়ে সকলের সমন্নয়ে প্রস্তুত কৃত তালিকা বাদ দিয়ে নিজের মন গড়া তালিকা প্রেরন করেন তিনি। আর তার প্রেরন করা তালিকায় ৮০ জনের মধ্যে ৪৫ জন তার পরিবারের সদস্য। ভাই, ভাতিজা, ভাইর বউ, ভাতিজি, শ্যালক, মামা, খালু, ফুফা, ফুফু ও বাদ রাখেন নি এই তালিকায়। মোবাইল নাম্বার গুলো ভিন্ন ভিন্ন হলেও সবাই একই পরিবারের। এমন কি নিজ আত্বিয় অন্য ওয়ার্ডের হওয়া সত্ব্যেও ৯ নং ওয়ার্ডের তালিকায় তার নাম ও মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়েছে। সৌয়দপুর ইউপি ত্রাণ কমিটির ৮ জন সদস্য মাননীয় সাংসদ ভোলা-২, জেলা প্রশাসক, এ্যাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ইউপি সদস্য আলমগিরের তালিকা প্রেরনে এতোটাই অনিয়ম করছেন যে পরিবারের কোন সদস্য কে বাদ রাখেন নি, ছেলে মেয়ে, ছেলের বউ, নিজের বউকে রেখেছেন তালিকায়। যাতে কোন শব্দ না হয় সেজন্য ঐ ওয়ার্ডের চকিদারকেও দিয়েছেন ৫ টি নাম। চকিদার তার সন্তান, ছেলে, মেয়ে, বউ এর ৫ টি মেবাইল নাম্বার সহ তালিকা দিয়ে টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন। বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, পঙ্গু ভাতা, সহ সব কিছুতেই রয়েছে পরিবারের সদস্যরা। বাহিরে যা দিয়েছেন মোটামুটি নিজ পকেট ভারি করার পর। খোজ নিয়ে জানা গেছে নির্বাচিত হওয়ার পর আর পিছনে ফিরতে হয়নি তাকে। সরকারের সব ধরনের সুবিধা নিজ কব্জায় নিয়েছেন গোছালো ভাবে। একক কর্তিত্বে সব কিছু পারিবারিক ভাবেই ভোগ দখল করছেন। এবারও তাহার বাহিরে জাননি তিনি। মুলত মোবাইলে টাকা আসতে থাকলে সকলের সমন্নয়ে তৈরি করা তালিকা অনুযায়ী টাকা না আসলে সন্দেহ হয় ঐ ওয়ার্ডের মানুষের। তখন তারা জেলা পরিষদ থেকে তালিকা উত্তলন করেন দৌলতখান সৌয়দপুর ইউনিয়নের। আর তখনই বেড়িয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা। এই সমস্ত অসাধু ব্যক্তিদের কারনে সরকারের সুফল থেকে বন্চিত হয় সাধারন মানুষ। তাই ঐ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ তদন্ত করে তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

মেহেদী হাসান শরীফ

দৌলতখান( ভোলা)
প্রতিনিধিঃ০১৭১৯৮৩৪৫০১