দৌলতখানে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ : ভাংচুর, আহত-২০

 

দৌলতখান( ভোলা) প্রতিনিধি :

দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের দিদারউল্ল্যাহ ৫ নং ওয়ার্ডে জায়গা জমি দখলকে কেন্দ্র করে একই বাড়ির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যপক সংঘর্ষ হয়েছে। আহত হয়েছে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন। ভাংচুর করা হয়েছে বসত ঘর, মটরসাইকেল। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় সাহাজান হাওলাদার বাড়ির শাহাজান হাওলাদার ও শাহেআলম হাওলাদার দের সাথে দীর্ঘদিন জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বেলায়েত হাওলাদার ও রুহুল আমিন হাওলাদারদের সাথে। ২০০১ সালে বিএনপি জোট ক্ষমতায় আসার পর সাজাহান ও সাহেআলম হাওলাদারদের জমি জোর করে দখল করে বেলায়েত ও রুহুল আমিন। তখন বাধা দিতে পারেনি কারন দখল কারীরা ক্ষমতাসীন দলের কর্মী ও স্থানীয় নেতা। আর সাহেআলম গংরা আওয়ামিলীগ সমর্থিত। ঐ জমি এখনও বেলায়েত গংদের দখলে। দির্ঘদিন আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় থাকলেও বিএনপি কর্মীদের কবল থেকে নিজ জমি উদ্ধারে ব্যর্থ হয় সাজাহান গংরা। কারন স্থানীয় রাজনীতির মারপ্যাচে বন্ধি তারা। বিএনপি গ্রুপ টিকে সেল্টার দিচ্ছে ঐ ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মনির মেম্বার। মুলত দুই বার মেম্বার হওয়ার সুবাধে বিএপিকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে ঐ ওয়ার্ডে মেম্বার মনির। তার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের উপর স্টিমরোলার চালানোর বহু অভিযোগ রয়েছে। বহু গুনে গুনান্নিত মনির মেম্বার বর্তমান ঘটনাটির কলকাঠি নারছেন। রবিবার দুপুর ১ টার সময় হাওলাদার বাড়ির ঘাটলায় কথা কাটাকাটি হয় সাজাহান হাওলাদারদের সাথে বেলায়েত গংদের সাথে। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই মোঃ বজলু (৫০) এর হুকুমে তাজউদ্দিন (৩৫) ফরাদ (২০) নুরনবী (৩৫) হাবিব (২৫) নুরেআলম (৩০) আলম, হেলাল সিরাজ সহ ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি, ইট এর গুরা, রড,পাইপ, মরিচের গুরা ছিটিয়ে হামলা চালায়। এতোপাথারি পিটানো হয় নারী, পুরুষ, বৃদ্ধা শিশুদের কে। চরপাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক এর হাতের একটি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পড়ে হাসপাতালে আনলে তা ফেলে দিতে হয়। আলী আজম মুকুল কিন্ডারগার্ডেন এর শিক্ষিকা আংকুর বেগমের মাথায় ১০ টি সেলাই দেওয়া হয়। বজলুর নেতৃত্বে হামলায় আহত হয় সোহেব (২৫) মাকসুদ হাওলাদার( ৪৫) রুবেল (৪০) রাশেদ ( ৩০) শাহেআলম হাওলাদার (৭৫) তৈয়বা খাতুন (৬০) আছিয়া বেগম (৫০) সোহাগ, আমজাদ, আরিফুল, সহ ২০ জন এদের দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বেলায়েত গ্রুপের ৩ জন আহত হয়েছে বলে দাবী করছেন তারা। তবে তাদেরকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রুহুল আমিন গং। একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে জমি জমা নিয়ে একই বাড়ির দুই গ্রুপে দীর্ঘদিন বিরোধ রয়েছে। কোর্টে মামলা চলমান এরই মধ্যে স্থানীয় ইন্দনে চলছে হামলা সংঘর্ষ। বজলুর নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয় সাজাহান হাওলাদারের বসত ঘর। রমজান মাসে হামলা কারিদের হাত থেকে রেহাই পায়নি মহিলারাও। স্থানীয় ইউপি সদস্য মেম্বার মনির সাথে কথা বলতে মুঠোফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেন নি। দৌলতখান থানার এস,আই জাহিদ বলছেন খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে বিবাদমান দু’পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।