থাকার কথা ছিল বই নিয়ে : ঘুরে বেড়াচ্ছে পান-সিগারেটের ডালা নিয়ে

অলিউল্লাহ ইমরান, বরগুনাঃ
বরগুনার সার্কিট হাউজ মাঠে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে লামিয়া ও পারভীন নামের দুই শিশু সিগারেট ও পান- সুপারির ডালা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সবার দ্বারে দ্বারে। সবার কাছে বিক্রির জন্য গিয়ে কারো কারো কাছ থেকে ফিরে আসতে হচ্ছে খালি হাতে। এমন করে দিন কাটাতে হয় তাদের ছাত্র জীবনে। সারাদিন ঘুরে পান-সিগারেট বিক্রি করে ৫০/১০০টাকা নিয়ে আসে তারা ঘরে ফিরে।
শুক্রবার বিকেলে সার্কিট হাউস মাঠে ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ দেখা গেছে দুই শিশুকে পান সিগারেট বিক্রি করতে। শিশুদের মুখে কথা শুনে মেধার প্রমাণ ভেষে উঠতে লাগলো তাদের কাছ থেকে। বাবার ছায়া/আদর/ভালোবাসা নেই বলে টাকার অভাবে মাঠে পান সিগারেট বিক্রি করতে নামতে হয়েছে তাদের।
তথ্য সূত্রে পরিবারের কাছে গিয়ে দেখা যায়, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করছে পারভিন ও লামিয়ার পরিবার।
ঘরে ঢুকে দেখা যাচ্ছে পারভীনের বাবা প্যারালাইসিস হয়ে অসুস্থ অবস্থায়  বিছানায় পরে রয়েছে। অপরদিকে লামিয়ার বাবা নেই ঘরের শুধু প্রতিবন্ধী মা ও দাদি রয়েছে।
ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে উত্তম দাস বলেন, এই শিশুদের এখন থাকার কথা ছিল লেখা পড়ার টেবিলে অথবা খেলাধুলার মাঠে কিংবা বাবা-মায়ের আঁচলে। কিন্তু দেখতেই পাচ্ছেন আয় রোজগারের জন্য অল্প বয়সী তারা ব্যবসা খুঁজে নিয়েছে। আমাদের মধ্যে বিত্তবান বা সমাজের উপর মহল থেকে শিশুদের পাশে থেকে যাতে তারা লেখাপড়া করতে পারে। এবং শিশু শ্রম থেকে সমাজ রক্ষা পেতো।
পারভীনের মা নাসিমা বলেন, আল্লাহ হয়তো কপালে লিখে রেখেছেন বলেই এভাবে চলতে হচ্ছে। বরগুনা পোরসভায় মাষ্টাররুলে চাকরি নিয়েছি সেখানে মাসে চার হাজার টাকা পাই। কিন্তু কিস্তি, সংসার, ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ এতো কিছু কেমনে চার হাজার টাকায় চালামু।
লামিয়ার মা পলি বেগম বলেন, আমি প্রতিবন্ধী সেই ভাতা দিয়ে চলে না আমার সংসার। ঘরে মা মেয়ে নিয়ে থাকি অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছি। বাচ্চাদের লেখাপড়া করার সামর্থ নেই। আমাদের পাশে যদি বিত্তবান কেউ থাকে তাহলে হয়তো একটু ওদের পড়াশোনার ব্যাবস্থা করতে পারতাম।
বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিয়া শারমিন বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমার কাছে শিশুদের পরিবারসহ দেখা করেছে। আমি আর্থিক সহায়তার জন্য ফরম পূরণ করে দিতে বলেছি। ফরমটি আমার কাছে জমা দিলে সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি তহবিল থেকে শিশুদের লেখাপড়ার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রধান করা হবে।