ঢাকায় কোরবানির গরুর জন্য হাহাকার

স্টাফ রিপোর্টার :

ঈদের বাকি আছে মাত্র একদিন। এরমধ্যে ঢাকায় কোরবানির গরুর জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। বাজার গরুশূন্য হয়ে পড়েছে। শেষ মুহূর্তে কোরবানির পশুর জন্য হন্য হয়ে ঘুরছে মানুষ। ছুটছেন এক বাজার থেকে অন্য বাজারে। কোথাও কাঙ্খিত গরুর দেখা মিলছে না। যে অল্প সংখ্যক আছে তার দামও চড়া। বাজারে গরুর চেয়ে ক্রেতা বেশি।

মূলত ঈদের এক-দু’দিন আগে কোরবানির পশু কেনেন রাজধানীর বাসিন্দারা। এই সময়ে এবার পশুর সংকট দেখা দেওয়ায় কোরবানি দিতে পারা নিয়ে অনিশ্চয়তায় তারা। বাজার ইজারাদাররা বলছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবছর যে বেপারিরা গরু আনেন, তারা করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার আসেননি। শুরু থেকে ঢাকায় গরুর বাজার বসা নিয়ে সংশয়ের কারণেও অনেক বেপারি এবার বাজারমুখী হননি। এছাড়া বাজার শুরুর পর থেকে ক্রেতা না পাওয়ায় স্থানীয় বেপারিরা গরু নিয়ে গ্রামের হাটগুলোতে ছুটেছেন। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে ঢাকার বাজারগুলোতে হঠাৎ করে ক্রেতার আধিক্য বাড়ায় বাজারে গরু সংকট শুরু হয়েছে। তবে সংকট মোকাবেলায় ইতিমধ্যে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর বেপারিদের গরু নিয়ে আসতে খবর দেওয়া হয়েছে বলে জানান বাজার ইজারাদাররা।

রাজধানীর দু’টি বাজারের একটি আফতাব নগর। সন্ধ্যার পর থেকে হাটের শেড গরুশূন্য হতে থাকে। রাত আটটার দিকে বাজারের ভেতর পুরো শেড শূন্য হয়ে পড়ে। বাজারের আশপাশে কিছু গরু থাকলেও দাম অস্বাভাবিক চড়া। এখানে কিছু বড় গরু থাকলেও মাঝারি গরু নেই বললেই চলে। ছোট গরুর সংখ্যা খুবই কম। যা আছে বিক্রেতারা দাম হাঁকছেন অস্বাভাবিক। গরুর চেয়ে বাজারে ক্রেতা বেশি। একই অবস্থা শনির আখড়া বাজার, সাইনবোর্ড গরুর বাজারসহ রাজধানীর সবগুলো পশুর বাজারে।

রাত সাড়ে দশটায় কথা হয় বনস্রীর বাসিন্দা ইমরান ভুইয়ার সঙ্গে। তিনি তখন তার বাবাকে নিয়ে আফতাব নগর গরুর বাজারে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, ‘বিকালে মেরাদিয়া হাটে গিয়েছি। সেখানেও গরু সংকট। একে একে সাইনবোর্ড, শনির আখড়া সহ কয়েকটি বাজারে গেছি। কোথাও পছন্দমতো গরু পাইনি। কয়েকটি পছন্দ হলেও দাম খুবই চড়া। যার কারণে কিনতে পারিনি। এখন আফতাব নগর বাজারে এসেছি। এখানেও গরু নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছে। ৪০ হাজারের গরু ৮০ থেকে ৯০ হাজার বলছে বিক্রেতারা। বাজারে আর গরু না আসলে এ বছর হয়তো আর কোরবানি দেওয়া হবে না।’

মাতুয়াইল এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবছর কোরবানির এক-দু’দিন আগে শনির আখড়া থেকে গরু কিনি। এবার বাজারে এসে দেখি মূল বাজার গরু শূন্য। বাইরে কিছু গরু থাকলেও ক্রেতা বেশি। এ জন্য বিক্রেতারাও উচ্চ মূল্য হাঁকছেন।’

শনির আখড়া বাজারের ইজাদার বলেন, ঢাকায় বাজার বসবে না বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। যার কারণে কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, চাপাইনবাবগঞ্জ সহ উত্তরবঙ্গ থেকে এবার গরু নিয়ে আসেননি বেপারিরা। তাদের খবর দিলেও তারা আমাদের কথায় আস্থা রাখতে পারেননি। যার কারণে বাজারে গরুর সংকট তৈরি হয়েছে। এখন খবর দিলেওতো তারা কোরবানির আগে আসতে পারবেন না।’