কেরানীগঞ্জে হঠাৎ অস্থির পিয়াজের বাজার

শাহিন আহম্মেদ, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি:

কেরানীগঞ্জ হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে পিয়াজের বাজার। পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজি প্রতি পিয়াজে ৬০/৭০ টাকা দাম বেড়েছে। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজেদের হাতে থাকা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন দেশীয় ব্যবসায়ীরা।একদিনের ব্যবধানে দাম প্রায় তিনগুণ দাম নিচ্ছে।

কেরানীগঞ্জের কদমতলি ইকুরিয়া,হাসনাবাদ, আব্দুলাপুর, রাজেন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন বাজার সমূহের খবর নিয়ে পিয়াজের ঝাজ বাড়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রায় সবগুলো বাজারে প্রচুর পরিমাণে পিয়াজ মজুদ থাকলেও পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের খেয়াল খুশিমত দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা (খুচরা মুল্য) দরে বিক্রি হলেও এখানে ক্রমাগত বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পেঁয়াজের খুচরা বাজারে কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৩৫ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও একদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কেজি প্রতি ৬০থেকে ৭০ টাকা হারে বেড়ে যায়। কোন কোন বিক্রেতা নিজের ইচ্ছেমত দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বিক্রেতারা ভারত থেকে রফতানি বন্ধ করার অজুহাত দেখিয়ে তারা খেয়াল খুশিমতো দাম আদায় করছেন। খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি মোকাম থেকে কিনে নিয়ে কেজি প্রতি ৮৫, ৯০ আবার কেউ কেউ ১০০ টাকা হারেও বিক্রি করছেন। এককথায় খুচরা দোকানে দামের তফাৎ প্রায় তিনগুণ ।

সোলায়মান নামে একজন ক্রেতা বলছেন,বর্তমানে দেশে দেশি-বিদেশি যে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, তা দেশেই উৎপাদিত অথবা আগের স্বল্প মূল্যে কেনা পেঁয়াজ। দুদিন আগে যে পেঁয়াজ কিনেছি ৩৫টাকায়, আজ কীভাবে সেটা ১০০ টাকা হয়? ভারত রপ্তানি বন্ধ করেছে বুঝলাম, কিন্তু এই পেঁয়াজ তো আগেই কেনা। তাহলে এটার দাম বাড়ল কীভাবে?

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ভারত বাংলাদেশে পিয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। মূলত এ খবর ছড়িয়ে পড়ার কারণে কেরানীগঞ্জে প্রায় সকল বাজারে তাৎক্ষণিক পিয়াজের দাম বেড়ে গেছে। তাদের দাবি, শুধু কেরানীগঞ্জের বাজার নয়। সারাদেশেই দাম বেড়েছে। গতবারের মতো পেঁয়াজের দাম ত্রিপল সেঞ্চুর (৩০০) টাকা হবে বলেও কোন কোন ব্যবসায়ী ধারণা করছেন।

দোকানদার ইয়াকুব আলী অবশ্য দাবি করছেন, পাইকারি বাজার থেকে তাকে চড়া দামে কিনতে হয়েছে। এ কারণে তিনিও বেশি দামে বিক্রি করছেন।