কলকাতায় শুরু হল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব

কলকাতায় শুরু হল ৪ দিনব্যাপি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব। কলকাতার নন্দন-২, ৩ এবং নজরুল তীর্থ-৩ প্রেক্ষাগৃহে আগামী ৮ জানুয়ারী পর্যন্ত দেখানো হবে ওপার বাংলার সিনেমা। শুক্রবার সন্ধ্যায় নন্দন-২ প্রেক্ষাগৃহে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রাণলয়ের সচিব মনজুরুর রহমান, দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, প্রখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক, গার্গী রায় চৌধুরী, কলকাতা উপ-হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) মোফাকখারুল ইকবাল প্রমুখ।

চলচ্চিত্র উৎসবের পাশাপাশি এদিন থেকে নন্দন গ্যালারি-৪ এবং নজরুল তীর্থ আর্ট গ্যালারিতে শুরু হল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, এটা চলবে ৮ জানুয়ারী পর্যন্ত। দুপুর ১২ টা থেকে শুরু হয়ে তা চলবে রাত্রি ৮ টা পর্যন্ত।

এদিন প্রধান অতিথির ভাষণে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করে ইনু বলেন, একাত্তরের যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল ভারত। দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সেসময় যে কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়েছিলেন-তা কখনই অস্বীকার করার নয়। দু’দেশের বন্ধুত্ব রক্ত দিয়ে বাধা, রক্ত দিয়ে গাঁথা। তাই রাজনৈতিক উত্থান-পতন যাই হোক না কেন দুই দেশের মানুষ মৈত্রীবন্দনে আবদ্ধ আছি।

মন্ত্রীর অভিমত, এই অঞ্চলকে উন্নয়নের পথে, আনন্দের পথে বা শান্তির পথে নিয়ে যেতে হলে দক্ষিণ এশিয়ার সমস্ত রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদকে পরাস্ত করার অঙ্গীকার করতে হবে। সেটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর সেদিক থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সন্ত্রাস দমনে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমরা যে যুদ্ধ শুরু করেছি তা একা করার নয়, ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই লড়াই করতে হবে। সন্ত্রাস দু’দেশের ‘কমন শত্রু’। আর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ের জন্য সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে একটা সমান্তরাল সম্পর্ক গড়তে হবে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র উৎসবটা একাত্তরের মৈত্রী বন্ধনকে উজ্জীবীত করবে, শক্তিশালী ও ঘনিষ্ঠ করবে।

বাংলাদেশে ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি আগামী দু’মাসের মধ্যেই আমাদের সরকারের তরফে আমরা ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা সহ বিভাগীয় শহরগুলিতে অনুষ্ঠান করা হবে। এখানে অনেক পুরোনো ছবি দেখানো হবে যে ছবিগুলি মর্মান্তিক সংগ্রামে প্রেরণা দিয়েছিল, জাতীয়তাবাদী সংগ্রামে প্রেরণা দিয়েছিল ও মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা দিয়েছিল।

তথ্যমন্ত্রী ছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রাণলয়ের সচিব মনজুরুর রহমান, দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, প্রখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক, গার্গী রায় চৌধুরী, কলকাতা উপ-হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) মোফাকখারুল ইকবাল প্রমুখ।