কক্সবাজারে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সমাপনী ভ্রমণে সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযান  

মোঃফজলে রাব্বি, বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
সব সময়ই পর্যটকদের আনাগোনায় প্রাণোচ্ছল থাকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের ভিড়ে আড়ষ্ট থাকে সৈকতের বিভিন্ন অংশ। প্রতিনিয়ত পর্যটকদের অসচেতনতায় অপরিচ্ছন্ন হচ্ছে এই সৈকতের অনেকাংশ,নষ্ট হচ্ছে পরিবেশগত ভারসাম্য ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য।
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সমাপনী ভ্রমণের অংশ হিসেবে ব্যতিক্রমী পরিচ্ছন্নতা অভিযান “কিপ দ্যা নেচার ক্লিন” কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় ময়লা আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে ফেলে পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষা সমাপনী ভ্রমণে কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রাম,রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি,বান্দরবান ভ্রমণ শেষে গতকাল (রবিবার) তারা রাতে কক্সবাজার আসেন।প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের সময় সৈকতে এত পরিমাণ বর্জ্য পেয়ে তাঁরা হতবাক হয়ে যান। মানুষের এমন অসচেতনতায় দ্বীপটিকে রক্ষার ব্যাপারে তাঁরা শঙ্কাবোধ করছেন।
তাই আজ (সোমবার) প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন পর্যটকরাও তাদের সাথে প্লাস্টিকজাত বর্জ্য সংগ্রহে এগিয়ে আসে।
এ সময় বশেমুরবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী সৈকতপ্রান্ত থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তা থেকে প্লাস্টিক,চিপসের প্যাকেট, স্ট্র, একবার ব্যবহারযোগ্য চায়ের কাপ ও অপচনশীল প্রায় ৫ বস্তা বর্জ্য বস্তাবন্দি করে।
এ বিষয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী রেয়াজুল রিয়াজ জানান, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত জীববৈচিত্র‍্যের অপার সম্পদ।আমাদের অসচেতনতার কারণে এখানকার পরিবেশ প্রকৃতি আজ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। সচেতন নাগরিক হিসেবে চেষ্টা করেছি আধা ঘন্টার জন্য হলেও বোতল, চিপসের প্যাকেট, স্ট্রগুলো পরিষ্কার করার।
পরিচ্ছনতায় অংশ নেয়া আরেক শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব বলেন, আমাদের এই ক্ষুদ্রপ্রয়াস পর্যটকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
আরেক শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, যে জায়গায় এসেছি,সে জায়গাটা পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছি।
পরিচ্ছন্নতায় অংশ নেয়া বশেমুরবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, শিক্ষা সমাপনী ভ্রমণ স্মরণীয় রাখার পাশাপাশি একটা ছোট উদ্যোগ যেন ইতিবাচক কাজের স্বাক্ষী হয়,সে চেষ্টায় করেছি।