ইউনিক আইডি কার্ড ও উপবৃত্তির ফরম পূরনের জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে নেওয়া হচ্ছে টাকা

সোলায়মান হোসাইন রুবেল, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণার মদন উপজেলার ত্রিয়শ্রী ইউনিয়নের বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয়ে ইউনিক আইডি কার্ড ও উপবৃত্তির ফরম পূরনের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এতে করে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে। এ ব্যাপারে মদন উপজেলা শিক্ষা অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার মদন উপজেলার ত্রিয়শ্রী ইউনিয়নের বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয় হাওর এলাকার একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এই বিদ্যালয়ে প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ১৩শত শিক্ষার্থী রয়েছে। অনেকেই দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় কষ্ট করে লেখাপড়া করতে হয়। পড়ালেখার খরচ যোগাতে অনেক হিমশিম খেতে হয় বাবা মাকেই। তারপরও সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে অভিভাবকগন।
সম্প্রতি ইউনিক আইডি কার্ডের জন্য ১২০ টাকা ও উপবৃত্তির ফরম পুরনের জন্য ১০০ টাকা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে অভিভাবকদের মাঝে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিজয়, আনিকা, শ্রাবন, একাসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে আমাদের কাছ থেকে আইডি কার্ডের জন্য ১০০ টাকা এবং ছবির জন্য ২০ টাকা নিয়েছে। এছাড়াও ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উপবৃত্তির ফরম পূরনের জন্য ১০০ টাকা নিয়েছে।’
বালালী গ্রামের শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নব-নির্বাচিত সদস্য জাকারিয়া চন্দন, আপেল মাহমুদ বলেন, এ ব্যাপারে মদন উপজেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে গত ১৪ মে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যরা।
এছাড়াও অনিয়মভাবে টাকা নেয়ায় তদন্ত সাপেক্ষে টাকা ফেরতসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান স্থানীয় অভিভাবকগন।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নব-নির্বাচিত সভাপতি রফিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘আমি নিজেও টাকা দিয়েছি। কিন্তু কিসের জন্য নিয়েছে তা আমার জানা নেই। শুনেছি আইডি কার্ড ও উপবৃত্তির ফরম পূরনের জন্য টাকা নেয়া সরকারিভাবে কোন নিয়ম নেই। দায়িত্বগ্রহণ করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘আমি আইডি কার্ড ও উপবৃত্তির ফরম পূরনের জন্য কোন টাকা নেইনি। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’
মদন উপজেলা মাধ্যমিক অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার জোসনা জানান, ‘আইডি কার্ড ও উপবৃত্তির ফরম পূরন বিদ্যালয় থেকে করতে হয়। এজন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে কম্পিউটার ল্যাব করে দেয়া হয়েছে। টাকা নেয়ার কোন বিধান নেই।
এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।’
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’